উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে চান অনেক শিক্ষার্থী। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবার বড় সুযোগ নিয়ে এল দেশটির অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষ ‘অ্যাডমিশন স্কলারশিপ’ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই বৃত্তি কানাডিয়ান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। যাঁরা মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার খোঁজে কানাডাকে বেছে নিতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ।
কানাডার রাজধানী অটোয়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া’ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ইংরেজি ও ফরাসি—উভয় ভাষায় পাঠদানের মাধ্যমে অনন্য এক দ্বিভাষিক পরিবেশ নিশ্চিত করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম সারিতে থাকে। উন্নত গবেষণাগার, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশের কারণে এটি বর্তমানে উচ্চশিক্ষার এক অন্যতম প্রধান গন্তব্য।
সুযোগ-সুবিধা: অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্কলারশিপের আওতায় একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি যে আর্থিক সুবিধা পাবেন, তা বাংলাদেশি টাকায় বেশ বড় অঙ্কের। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বছরে ৭ হাজার ৫০০ কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী) আর্থিক সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া গবেষণায় আগ্রহী পিএইচডি শিক্ষার্থীরা পাবেন আরও বেশি সুযোগ। তাঁরা বছরে প্রায় ৯ হাজার কানাডিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১ লাখ টাকার মতো শিক্ষা অনুদান বা বার্সারি পাবেন।
আবেদনের যোগ্যতা: এই স্কলারশিপের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। ভর্তির ক্ষেত্রে মেধার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্কলারশিপের জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে হলে আবেদনকারীর পূর্ববর্তী শিক্ষাজীবনে ১০ পয়েন্টের স্কেলে ন্যূনতম ৮ পয়েন্ট থাকতে হবে। আলাদা করে বৃত্তির আবেদনের পরিবর্তে, সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে সফলভাবে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বৃত্তির প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।
প্রয়োজনীয় তথ্য: বৃত্তিটির জন্য আবেদন করতে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র হিসেবে জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, পাসপোর্টের কপি এবং সব একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। ভর্তির প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে আবেদনকারীর চার বছরমেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। যেখানে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ নম্বর অথবা ‘বি’ গ্রেড থাকতে হবে। এ ছাড়া ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে টোয়েফল আইবিটিতে প্রতিটি সেকশনে ন্যূনতম ২৪ অথবা আইইএলটিএসের প্রতিটি ব্যান্ডে ন্যূনতম ৭ স্কোর থাকতে হবে।
অধ্যয়নের ক্ষেত্রগুলো: এই বৃত্তির আওতায় অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব বিভাগেই মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আর্টস, সোশ্যাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, হেলথ সায়েন্সেস, সায়েন্স, এডুকেশন এবং ম্যানেজমেন্টের মতো অনুষদগুলোতে অসংখ্য বিষয়ে পাঠদানের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আইন এবং মেডিসিনের মতো মর্যাদাপূর্ণ বিভাগগুলোতেও উচ্চশিক্ষার অবারিত সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের পদ্ধতি: আগ্রহী শিক্ষার্থীরা লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬।