হোম > শিক্ষা

স্নাতকে ভালো ফলের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি

মো. মনিরুল ইসলাম

শারমিন সুলতানা শিমু।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে সবার জন্য এ পথ সহজ নয়। প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি করছেন শারমিন সুলতানা শিমু। অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর বা পিএইচডিতে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা, করণীয় ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম

আপনার সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে চাই।

জন্মসূত্রে আমি জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় বড় হয়েছি। স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ থেকে। স্নাতকে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩.৯৫ অর্জন (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম) করায় অধ্যাপক ড. নাসিমা জোয়ার্দার গোল্ড মেডেল পাই। স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ছিল ৪-এ ৪।

এরপর কিউএস ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫০-এর মধ্যে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সাতটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য আবেদন করি এবং এর মধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিউশন ফি, লিভিং অ্যালাউন্সসহ ফুল ফান্ডেড বৃত্তি পাই। বর্তমানে সিডনিতে অবস্থিত ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছি।

অস্ট্রেলিয়ায় স্কলারশিপসহ পিএইচডি বা স্নাতকোত্তর করতে ন্যূনতম যোগ্যতা কী?

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়—

  • সিজিপিএ: ফার্স্ট ক্লাস থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ে সাধারণত ৩.৫০-এর বেশি সিজিপিএ নিরাপদ ধরা হয়। বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ক্ষেত্রে ৩.৭৫ বা তার বেশি থাকলে অন্য ক্রাইটেরিয়ার চাপ কিছুটা কমে। তবে মনে রাখতে হবে, সিজিপিএ সবকিছু নয়। কারও সিজিপিএ কম হলে অন্য যোগ্যতার মাধ্যমে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়।
  • পাবলিকেশন: গবেষণায় আসতে চাইলে ভালো মানের গবেষণাপত্র থাকা আবশ্যক। যদি গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম হয়, তাহলে শেখার আগ্রহ, পরিশ্রমী মানসিকতা ও গবেষণার কাঠামোগত বিষয়ে ভালো দখল থাকা জরুরি। আবার কারও যদি মানসম্মত ও পর্যাপ্ত পাবলিকেশন থাকে, তাহলে সামান্য কম সিজিপিএ হলেও সুযোগ মেলে।
  • ভাষাগত দক্ষতা (আইএলটিএস): স্নাতকোত্তর ও পিএইচডির জন্য আইএলটিএস বাধ্যতামূলক। সাধারণত স্নাতকোত্তরের জন্য ন্যূনতম-৬.৫ এবং পিএইচডির জন্য ৬.৫-৭.০ স্কোর চাওয়া হয়। পাশাপাশি রিডিং, রাইটিং, স্পিকিং ও লিসেনিং—প্রতিটি সেকশনে অন্তত ৬ থাকতে হয়।
  • চাকরির অভিজ্ঞতা (ঐচ্ছিক): বাংলাদেশে শিক্ষকতা বা গবেষণাসংশ্লিষ্ট কোনো চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে তা অতিরিক্ত সুবিধা দেয় এবং বৃত্তি পেতে সহায়তা করে।

ফান্ডিং ও স্কলারশিপ পেতে করণীয় কী?

সিজিপিএ, পাবলিকেশন ও ভাষাগত দক্ষতা—এই তিন মূল যোগ্যতা পূরণ করতে পারলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। সাধারণত স্নাতকোত্তরের তুলনায় পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপের সুযোগ বেশি থাকে।

পিএইচডি বা স্নাতকোত্তর চলাকালে পার্টটাইম জব করা কি সম্ভব?

পিএইচডি মূলত একটি ফুলটাইম কমিটমেন্ট। নিয়ম অনুযায়ী পিএইচডি চলাকালে অন্য কোনো কাজের অনুমতি থাকে না। যদিও বাস্তবে অনেকেই সীমিত পরিসরে পার্টটাইম কাজ করে থাকেন।

একজন শিক্ষার্থীর ধাপে ধাপে কীভাবে এগোনো উচিত?

প্রথমেই নিজের গবেষণা ক্ষেত্র নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সে ক্ষেত্রের অধ্যাপকদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস পাঠাতে হবে। অধ্যাপকের সম্মতি পেলে আবেদনের প্রক্রিয়া সহজ হয়।

আবেদন করার ক্ষেত্রে এজেন্সির ভূমিকা কতটা জরুরি?

এজেন্সি ছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজেরা আবেদন করতে পারেন। প্রক্রিয়াটি খুব একটা জটিল নয়। তবে নিজের কাজ নিজে করার সক্ষমতা থাকা উচিত। ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় চাইলে বিশ্বস্ত কোনো এজেন্সির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

অফার লেটার পেতে কেমন সময় লাগে?

এটি বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণত দেড় মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে ফল জানানো হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় একই সঙ্গে স্কলারশিপের ফলও প্রকাশ করে।

নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

গবেষণায় স্কলারশিপ পেতে হলে সবগুলো ক্রাইটেরিয়ায় নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। স্নাতকের প্রথম বর্ষ থেকে ভালো ফলের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত গবেষণাপত্র পড়া এবং ল্যাবভিত্তিক কাজে যুক্ত থাকা উচিত। এতে চতুর্থ বর্ষের মধ্যে পেপার প্রকাশের সক্ষমতা তৈরি হয়।

একই সঙ্গে ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সব সময় একটি সায়েন্টিফিক পরিবেশে নিজেকে রাখার চেষ্টা করা উচিত। কারণ, একজন গবেষক মূলত মেন্টরের সান্নিধ্যেই গড়ে ওঠে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গভীর আগ্রহ ও ভালোবাসা ছাড়া গবেষণার পথে না আসাই ভালো। কারণ, তৃপ্তি ও আনন্দ ছাড়া গবেষণা সম্ভব নয়।

বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টালে ভর্তি আবেদন শুরু

সুইডেনে অর্থায়িত জঙ্কোপিং ইউনিভার্সিটি বৃত্তি

ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্টে সফল হতে চাইলে যা যা জানা প্রয়োজন: পর্ব-২

‘মার্কস অ্যাকটিভ স্কুল জিনিয়াস’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

ইন্দোনেশিয়ায় সম্পূর্ণ অর্থায়িত কেএনবি বৃত্তি

কেন শিখব বিতর্ক

৩৮ হাজার শিশুকে শিক্ষায় ফিরিয়ে আনছে সরকার

দেশের ব্যবসায়িক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলছে ‘ইনোভেড ২০২৬’

জবির বি ইউনিটের ফল প্রকাশ ‎

শিক্ষা আইনের খসড়া: নিষিদ্ধ হচ্ছে শিক্ষার্থীকে শারীরিক শাস্তি ও মানসিক নিপীড়ন