মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ভকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করবে প্রত্যাশা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তবে ছাত্রদের জন্য এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও ছাত্রীদের ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর এ টুর্নামেন্টের শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
আজ সোমবার এ আয়োজনের প্রস্তুতির বিষয়ে টুর্নামেন্টের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এই সভাপতিত্বে এ সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি করে এবং মেয়েদের জন্য নির্ধারিত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া আয়োজন। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে সমান সুযোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে।’
শিক্ষামন্ত্রী এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন—তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং আহ্বান করা হয়েছে। লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং তৈরি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝেও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
সভায় মাঠ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, প্রচারণা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, টেকনিক্যাল এবং ভকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করবে। সকল ছেলে শিক্ষার্থীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক। আর মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক।’
সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে তাদের পাশে থাকবেও বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
এ প্রতিযোগিতা ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টির আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষাব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।’
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো, সেখানে ন্যায্যতা থাকবে, সমতা থাকবে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমে আসবে। সেই লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামীর নেতৃত্ব দেওয়ার যে গুণাবলি, যে মেধা এবং মননশীলতা রয়েছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।’
২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাইমারি স্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘সেখানে যে ফরম্যাট ছিল, এখানেও একই ফরম্যাট অনুসরণ করা হবে। আমরা যেহেতু বলছি, সারা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, তাই প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা পর্যায়, তারপর বিভাগীয় পর্যায় এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।’
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা রয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন।
গত ২০ জুন রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।