সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রমের জন্য অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের নিয়ে পুল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকস্বল্পতা এবং শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের কারণে এই পুল গঠন করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত ৯ এপ্রিলের অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়। আজ রোববার নির্দেশনাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকটের মুখে উপজেলা পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন করে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের ব্যয়ে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড, সব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকস্বল্পতা এবং বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের কারণে শ্রেণি পাঠদান বিঘ্নিত হওয়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের নিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের ব্যবস্থা নেবেন জেলা প্রশাসকেরা। ইউএনওর পরামর্শে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন নিয়ে ‘সাময়িকভাবে’ ওই পুল থেকে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মানী দিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বলা হয়েছে।
সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে শিক্ষকের ৬০ হাজার ২৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে বলে ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ কর্মচারী রয়েছেন।
এনটিআরসিএ গত ২৮ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদে নিবন্ধিত প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করে। তখন ওই সব প্রতিষ্ঠানে ৬৭ হাজার ২০৮টি শিক্ষক-প্রভাষক পদে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছিলেন ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। এতে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়ে গিয়েছিল।