হোম > শিক্ষা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শেষ সময়ে এমপিওর তোড়জোড়

রাহুল শর্মা, ঢাকা 

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল- কলেজ) এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় তোড়জোড় চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৭১৯টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের তিন মাসের জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৭ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, এমপিওভুক্তির আবেদনের সময় শেষ হওয়ার ছয় কর্মদিবসের মধ্যে প্রায় পৌনে দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করে অর্থ বরাদ্দের চিঠি পাঠানো তড়িঘড়ির নামান্তর।

অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত তালিকা এখনো তৈরি হয়নি। শুধু সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নির্ধারণ করে অর্থ বিভাগে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই চলছে। অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে।

মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করে। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন ভাতাও পেয়ে থাকেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫’ প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে। এতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সূচকে পরিবর্তন আনাসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। চলতি বছরের ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়। এরপর এসব আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তবে নন-এমপিও মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ এখনো শুরু হয়নি।

সূত্র জানায়, ৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বিভাগের সম্মতি চাওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, এমপিও নীতিমালার প্যাটার্ন অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ স্তরভেদে বছরে মোট ৬৭০ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। চিঠিতে প্রথম পর্যায়ে মোট ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বিভাগকে সম্মতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

ওই চিঠিতে ৪৭১টি নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১৮৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ১৪৫টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজের জন্য ১২৭ কোটি ১১ লাখ টাকা, ২৩২টি স্নাতক (সম্মান) কলেজে ১২৫ কোটি টাকা, ৬২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ১৩৫টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০২ কোটি ২২ লাখ টাকা, ২৩২টি স্নাতক (পাস) কলেজে ৩৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ ২০২৩ সালে কয়েক ধাপে নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে ১০-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল। আবেদনের ৮ মাস পর ২০২৩ সালের মে মাসে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

বর্তমানে সারা দেশে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে প্রায় ৩২ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত রয়েছে। প্রায় ৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও সুবিধার বাইরে রয়েছে।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ১৭ দিন অবস্থানের পর ১২ মার্চ তাঁরা শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক সেলিম মিয়া এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস পাওয়ার কথা তুলে ধরে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। পরে ২ নভেম্বর আবার তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ৩ নভেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ৯ নভেম্বর আন্দোলনকারীরা সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ছয় কর্মদিবসের মধ্যে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (দিনে গড়ে ৬০২টির বেশি) তথ্য নির্ভুল যাচাই-বাছাই করা অসম্ভব। এত অল্প সময়ে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে অর্থ বরাদ্দ চাওয়ার কার্যক্রমের এই গতি ‘অস্বাভাবিক’।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, এত তড়িঘড়ি করে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা নেই। এমপিওভুক্তির মতো আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়লগ্নে এই তাড়াহুড়োতে ত্রুটি থাকতে পারে।

এমপিওভুক্তির কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন ও এসএমএস করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি।

অবশ্য গত বছরের ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছিলেন, সারা দেশে সাধারণ ও কারিগরি মিলিয়ে ২ হাজার ৬০০টির বেশি এমপিওভুক্তির উপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও চূড়ান্ত করে যেতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার।

জানতে চাইলে এমপিওভুক্তকরণ যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি-১) মো. মিজানুর রহমান গত শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। যাচাই-বাছাই চলমান। অর্থ মন্ত্রণালয়ে শুধু যোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গেছে। অর্থ বিভাগে পাঠানো চিঠির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা বরাদ্দ চেয়েছি। অর্থ মন্ত্রণালয় যদি অর্থ বরাদ্দ দেয়, তাহলে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত কোনো তালিকা হয়নি। আমরা সম্ভাব্য তালিকা পাঠিয়েছি।’

এত কম সময়ে তালিকা করে কীভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলো, এমন প্রশ্নে মো. মিজানুর রহমান বলেন, এটা তো সফটওয়্যারে করা হয়েছে। সফটওয়্যারেই তো সব চলে আসে। কবে নাগাদ এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমি জানি না। যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগবে না?’

এমপিওভুক্তির বিষয়ে যা বলল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

নির্বাচন ঘিরে টানা ৫ দিন বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসায় শুরু হচ্ছে রমজানের ছুটি

সেরা দুজন স্বর্ণপদকজয়ীর গল্প

ডিআইইউর শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জন

রোবো কার্নিভ্যালে জয়ী তিন তরুণ

আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে বুটেক্সের সাফল্য

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি: প্রাচীন ৯ জনপদ

সব পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই

কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়িত বৃত্তি

বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টালে ভর্তি আবেদন শুরু