একই পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. আব্দুল আওয়াল (৬৫); তাঁর তিন মেয়ে মোছা. আসমা (৪৩), রেশমা খাতুন (৩৯) ও লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার (৩১); দুই জামাতা মো. মানিক মিয়া (৩৬) ও মো. কামাল উদ্দিন (৩৩) এবং পুত্রবধূ জাহানারা বেগম (৩৩)। তাঁদের বর্তমান ঠিকানা গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায়।
আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সিআইডি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। মাদক কারবার থেকে অর্জিত অর্থ তাঁরা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে তাঁদের হিসাবে ৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা লেনদেন হয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, আসমা, রেশমা ও লিজা—এই তিন বোনই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তাঁদের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক সংগ্রহ করে তাঁরা গাজীপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করতেন। স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও তাঁদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দিয়ে জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য অর্থের একটি অংশ পুনরায় মাদক ক্রয় ও ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক ও অন্যান্য অপরাধে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, লিজা বেগমের বিরুদ্ধে সাতটি, মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি ও আসমার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মাদক কারবার একটি সম্পৃক্ত অপরাধ। বর্তমানে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলাটির তদন্ত করছে বলে জানায় সিআইডি।