রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা সিটি ডেভেলপার্স হাউজিং ও একেপিচ টাওয়ার মার্কেটে চাঁদা দাবি করে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর তাঁকে ঘটনাস্থল এলাকায় ঘুরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। আজ রোববার দুপুরে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের একটি দল তাঁকে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
আজ বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ বলে, ফারুক বছিলা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে, যাদের দিয়ে ফুটপাত ও মার্কেট থেকে চাঁদা তোলা হতো। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দিন আগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র বলেছে, আজ গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ফারুককে ঘটনাস্থল এলাকায় ঘোরায়। এ সময় সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় করে।
পুলিশ ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ফারুক দলবল নিয়ে বছিলা সিটি ডেভেলপার্স এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী শাহিনের দোকানে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় দোকানের এক কর্মচারীকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়।
একই দিন ফারুকের লোকজন বছিলা সড়কের একেপিচ টাওয়ার মার্কেটের নিচতলা ও দোতলার সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন দোকান কর্মচারীকে হুমকি দিয়ে বলছেন—‘মালিকরে কবি, ফারুক কইছে মার্কেট বন্ধ রাখতে।’ ঘটনার পর আতঙ্কে দোকান বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। মোহাম্মদপুর থানায় মামলাও করেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, চাঁদাবাজরা বিভিন্ন কৌশলে টাকা দাবি করত। দোকান থেকে মালামাল নিয়ে যেত। ভয়ে সবাই দিত। কিন্তু কয়েক দিন ধরে তারা সরাসরি দুই লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। আরেক ভুক্তভোগী জানান, ফারুক তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। ভয়ে তিনি দুই দিন ফোন বন্ধ করে রেখেছিলেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাঁর সহযোগীদের শনাক্তে অভিযান চলছে।