ইভ্যালির দায়দেনা নিরূপণে আগামী সপ্তাহে বোর্ড গঠন করে দেবেন হাইকোর্ট। কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের বিষয়ে পর্যালোচনা করে আদালত আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে নির্দেশ অনুযায়ী আজ বুধবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চে তিনজনের নামের তালিকা দাখিল করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী তাপস কান্তি বল। তারা হলেন– ভূমি মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. রেজাউল আহসান এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত সচিব ইয়াকুব আলী পাটোয়ারী।। এর মধ্যে একজনকে রাখা হবে কমিটিতে।
এর আগে মঙ্গলবার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি পরিচালনার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথা বলেন হাইকোর্ট। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন সচিব, চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট ও একজন আইনজীবীকে কমিটিতে রাখার জন্য অভিমত ব্যক্ত করেন আদালত। গতকাল শুনানিতে আদালত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, `কোম্পানির দুজন সদস্যই কারাগারে। কীভাবে বোর্ড মিটিং হবে? বোর্ড মিটিং করতে গেলেও তা করা যাচ্ছে না। বোর্ড মিটিং না করতে পারলে টাকা কোথায় কী আছে, সে বিষয়েও জানা যাচ্ছে না। আমরা একটি বোর্ড গঠন করে দেব।'
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সব নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। সেই আদেশের ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে মঙ্গলবার এসব নথি দাখিল করা হয়। একজন ক্রেতা ইভ্যালিতে পণ্য অর্ডার করার পাঁচ মাস পরও তা বুঝে না পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ই-ক্যাব, ভোক্তা অধিকারে বারবার অভিযোগ করেন। কিন্তু তাতে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ইভ্যালির সব ধরনের সম্পদ বিক্রি-হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
আদালতে প্রতারণার শিকার গ্রাহকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। মঙ্গলবার শুনানিতে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের এখানে দায় রয়েছে। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি। এখনো এসব নিয়ন্ত্রণে কোনো আইন নেই। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, সাধারণ গ্রাহকদেরও লোভনীয় অফারের ক্ষেত্রে বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত ছিল।