দেশে খাদ্যের কোনো সংকট নেই। বর্তমান খাদ্য মজুত গত পাঁচ বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ, তাই চালের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই বলে আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। গতকাল রোববার সচিবালয়ে দেশের খাদ্য মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, বছরের শুরুর দিনে সরকারি গুদামে মোট ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ টন চাল, ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ টন গম এবং ৯ লাখ ৭ হাজার ৪০৯ টন ধান। তিনি বলেন, দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা ৭০ লাখ টন। এর মধ্যে মাত্র ১০ লাখ টন স্থানীয় উৎপাদন; বাকিটা আমদানি করতে হয়। চালের সিংহভাগ দেশীয়, কিছু আমদানি করা হয়েছে।
সাংবাদিকেরা এবারের আমদানির পরিমাণ জানতে চাইলে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এ মুহূর্তে ঠিক বলা সম্ভব নয়, আরও কয়েক মাস পরে বলতে পারব। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমদানি কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, আমনের সংগ্রহ ভালো এবং আগামী বোরো মৌসুমেও প্রচুর ধান-চাল সংগ্রহ হবে।’
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাব আমাদের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে না। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চলমান রয়েছে। ভারত থেকে আমরা চাল আমদানি করি। তারাও এটা বিক্রি করেন। আমরা এটাকে রাজনৈতিকভাবে দেখি না। বাজারটা কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের প্রয়োজন হয়। আমরা এটাকে দেখি বাজার মেকানিজম হিসেবে। যেখানে আমরা কম পাই, সেখান থেকে কিনি।’
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছিল। এ বছর সরকারের ভালো প্রস্তুতির কারণে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, এ অবস্থা বজায় থাকবে।’