ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ভারতীয় কোম্পানি আদানির সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি বাতিল ও আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি চেয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) যুব সংসদ। এটিসহ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে সংযুক্ত করতে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরেন ক্যাব যুব সংসদের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, কোষাধ্যক্ষ মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার প্রমুখ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী প্রেক্ষাপটে জ্বালানি খাতে জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে গত নভেম্বর মাসে ক্যাবের উদ্যোগে প্রথম জ্বালানি যুব সংসদীয় অধিবেশনে ক্যাব যুব সংসদ গঠিত হয়।
সংগঠনটির দাবিগুলো হচ্ছে—
(১) বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত রাখা।
(২) জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি আগামী সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদে কমপক্ষে গড়ে ৫ শতাংশ কমানো নিশ্চিত করা।
(৩) ওই পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা।
(8) ওই পাঁচ বছরে এলএনজি আমদানি ও কয়লাবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি না করা।
(৫) গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে গণশুনানির ভিত্তিতে স্থলভাগের শতভাগ গ্যাস বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা।
(৬) গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা অথবা দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিশ্চিত করা।
(৭) আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল ও আদানির বিদ্যুৎ আমদানি রদ নিশ্চিত করা।
(৮) ক্যাবের দায়ের করা স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪-সংক্রান্ত রিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি ও লাইসেন্স বাতিলসহ সব ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা।
(৯) ওইসব চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায় নিশ্চিত করা।
(১০) জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করা।
(১১) (ক) লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো এবং (খ) এলপিজির বাজার ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) কর্তৃত্ব রদ করা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির লাইসেন্স দেওয়া, সরকারি মালিকানায় এলপিজি টার্মিনাল ও অয়েল রিফাইনারি করা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজির ৫০ শতাংশ আমদানি ও স্টোরেজ ক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
(১২) বিইআরসির জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিইআরসির বিরুদ্ধে আনীত ক্যাবের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা, ক্যাব প্রস্তাবিত বিইআরসি আইন সংশোধনী প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা ও সেই সঙ্গে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪-এর আলোকে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা।
(১৩) আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্যাব যুব সংসদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় তাদের দাবিগুলো ইতিমধ্যে হস্তান্তর করেছে।