চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫২টি প্রকল্প কমিয়ে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২১টি প্রকল্প। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, যা চলমান এডিপির চেয়ে ১ লাখ কোটি টাকা বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন বাজেট। আগামী এডিপিতে বরাদ্দের দিক থেকে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত শীর্ষে রয়েছে। তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আগের তুলনায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
আজ শনিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। ১৬ মে আরেকটি বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়া চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এই উন্নয়ন বাজেট ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ২১। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি প্রস্তাবের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই উন্নয়ন বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৫৯১ দশমিক ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত এই পাঁচ খাতেই মোট এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৬২ শতাংশ ব্যয় হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার মূলত মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) এডিপির ৩৬ শতাংশের মতো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে যা সর্বনিম্ন।
এদিকে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নাজুক। অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। এই অবস্থায় আগামী বছরে আরেকটি বড় এডিপি নিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া প্রকল্পে বাস্তবায়ন সক্ষমতার ঘাটতিও আছে।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রস্তুত করা কার্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বা ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা জোগান দেবে। ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন বাজেটের আকার ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।