হোম > অর্থনীতি

নিলামপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর

 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি

নিলামপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর জমে আছে প্রায় ১০ হাজার নিলামযোগ্য কনটেইনার। এসব কনটেইনার ও পণ্য বন্দরের মোট ইয়ার্ডের ২২ শতাংশ জায়গা দখল করে থাকায় পণ্য খালাস ও জাহাজ পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকিও বেড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত এসব পণ্য সরানো না গেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্ষমতা আরও কমবে।

চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বন্দরের ইয়ার্ডে ৯ হাজার ৩৩০ টিইইউস (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার জমে ছিল। একই সময়ে বিভিন্ন শেডে একাধিক আমদানিকারকের প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার প্যাকেজ এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) পণ্যও খালাসের অপেক্ষায় ছিল। এসব নিলামযোগ্য পণ্যে সরকারের ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় অনিশ্চিত হয়ে আছে। বেসরকারি হিসাবে শিপিং এজেন্ট চার্জ ও কনটেইনার ভাড়া ধরলে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসির উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, শুধু নিলামযোগ্য পণ্য সরিয়ে ফেলতে পারলেই নতুন কোনো অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়া বিদ্যমান সুবিধাতে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব।

উদ্বেগের বিষয় হলো, আটকে থাকা কনটেইনারগুলোর মধ্যে ৩৩০টিতে দাহ্য পণ্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৪৪টি কনটেইনারকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আবার কিছু কনটেইনার ২২ থেকে ২৩ বছর ধরে বন্দরে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন খোলা পরিবেশে থাকায় অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দীর্ঘদিন বিপজ্জনক রাসায়নিক ও দাহ্য পণ্য বন্দরে পড়ে থাকায় অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও পরিবেশগত দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে গত ২ জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে দ্রুত নিলামপ্রক্রিয়া শেষ করা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ হওয়া পণ্য দ্রুত ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বলা হয়, ইয়ার্ডে জায়গার সংকটের কারণে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানো ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জাহাজের অবস্থানকাল (টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম) বেড়ে যাচ্ছে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং অঙ্গনে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, কাস্টমসের মূল্যায়ন শেষ হতে ৮-১০ দিন লেগে যায়। অথচ পণ্য আসার চার দিন পর থেকে ডেমারেজ চার্জ শুরু হয়। এতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ে, মূলধন আটকে যায় এবং কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হয়।

যদিও কাস্টমসের তথ্য বলছে, আগের তুলনায় নিলাম কার্যক্রম বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৪৯৩টি কনটেইনার নিলাম হলেও চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে নিলাম হয়েছে ৬৬১টি কনটেইনার।

তবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার মো. আবু সুফিয়ান বলেন, অনেক পণ্যের বিরুদ্ধে মামলা ও অন্যান্য আইনি জটিলতা থাকায় ইচ্ছা করলে দ্রুত নিলাম করা যায় না। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই সেগুলো নিলামে তোলা হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে সোনালী ব্যাংকে দোয়া মাহফিল

সেপা স্বাক্ষরকে স্বাগত জানাল এফবিসিসিআই

বাণিজ্য-বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়াবে ঢাকা-ক্যানবেরা

স্বর্ণ নীতিমালা সংশোধনে এগোচ্ছে সরকার

এক্সিমের পর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসক প্রত্যাহার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা কিউআর বিষয়ে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

এলএনজি সরবরাহ বাড়ছে, গ্যাস-সংকটও কাটছে

সোনার ভরি একলাফে বাড়ল ৯৮৫৬ টাকা

প্রবাসী আয়ের ৬২ শতাংশই আসছে পাঁচ দেশ থেকে

রাজস্ব ঘাটতি ৮৭ হাজার কোটি