মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদেশি ক্রেতারা। প্রভাব হিসেবে অনেক ক্রেতা তাঁদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে ভারতসহ বিকল্প বাজারে সরিয়ে নিচ্ছেন। এ অবস্থায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি আয়ের ওপর বর্তমান ১ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট সংলাপে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিদেশি ক্রেতারা। এর প্রভাব হিসেবে অনেক ক্রেতা তাঁদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে ভারতসহ বিকল্প বাজারে সরিয়ে নিচ্ছেন।’
তিনি জানান, এক বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে এ উদ্বেগের চিত্র। তাঁর ভাষ্য, ওই ক্রেতা বলেছেন—বাংলাদেশে শিগগিরই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে—এমন ধারণার কারণে তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নতুন অর্ডার দিতে নিরুৎসাহিত করছে এবং ইতিমধ্যে কিছু অর্ডার ভারতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আসন্ন জুলাই-আগস্ট মৌসুমের সম্ভাব্য অর্ডার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বিসিআই সভাপতি বলেন, ‘বড় বায়িং হাউসগুলো ইতিমধ্যে সরবরাহকারীদের ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অর্ডারের একটি অংশ অন্য দেশে চলে যেতে পারে। ফলে প্রত্যাশিত নতুন কার্যাদেশ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে এবং আলোচনা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি রপ্তানি আয়ের ওপর বর্তমান ১ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন।
তাঁর মতে, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় পোশাক খাত সামনে আরও চাপের মুখে পড়তে পারে, তাই নীতিনির্ধারণে দ্রুত সহায়ক পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা লাভজনক না হলেও ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার কর পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করছে।
সংলাপে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি ই-করপোরেট রিটার্ন চালু, আমানতের সুদের ওপর উৎসে কর কমানো এবং সারচার্জ ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়। অন্যদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার তালিকাভুক্ত নয়—এমন কোম্পানির করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।