টুয়েলভ, লা রিভ, সেইলর, ক্যাটস আই, রিচম্যান, জেন্টল পার্ক, আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, দেশাল, কে ক্র্যাফট কিংবা সাদাকালো—দেশি ফ্যাশন হাউসের জগতে প্রতিটি পরিচিত ব্র্যান্ড। তবে পোশাকের বাজারে প্রতিষ্ঠিত হাউসের সংখ্যা শতাধিক। ছোট-বড় মিলিয়ে দেশে ফ্যাশন হাউস রয়েছে পাঁচ সহস্রাধিক। ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বেচাবিক্রি ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখন সেই বাজার আরও বড় হয়েছে। তবে এই খাতের বড় অংশই নির্ভর করে উৎসব মৌসুমের ওপর; বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের আগের সময়ে। তাই প্রায় সব ফ্যাশন হাউসই আগেভাগে বিনিয়োগ ও বিক্রির প্রস্তুতি নেয়।
এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদ সামনে রেখে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর ফ্যাশন হাউসের শোরুমে নতুন পোশাকের সমারোহ। সাজানো হয়েছে বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ। ক্রেতাদের আনাগোনাও ধীরে বাড়ছে। তবু উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশামতো বাজারে সেই জোয়ার এখনো দেখা যাচ্ছে না। বিক্রি একেবারে খারাপ না হলেও অনেক ব্র্যান্ডের হিসাব বলছে, এবারের ঈদবাজার আশার চেয়ে কিছুটা দুর্বল।
ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের আশা ছিল, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অনিশ্চয়তা কমবে। তার প্রভাব পড়বে ঈদের কেনাকাটায়ও। অনেকে ধারণা করেছিলেন, অন্তত গত বছরের তুলনায় বিক্রি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়বে। কিন্তু বর্তমান বাজার চিত্র বলছে, সেই গতি এখনো তৈরি হয়নি।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, খিলগাঁও, মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড, আজিজ মার্কেট, বনশ্রী, ওয়ারীর মতো এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা দোকানে ঢুকছেন, পোশাক দেখছেন, তুলনা করছেন। তবে কেনাকাটায় আগের মতো তাড়াহুড়ো নেই। অনেকে হালকা কাপড়ের পোশাক বেছে নিচ্ছেন, আবার কেউ দাম যাচাই করে পরে কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
ফ্যাশন হাউসগুলো দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক নকশার মিশেলে নতুন সংগ্রহ এনেছে। মেয়েদের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস, টু-পিস, কুর্তা ও টপের পাশাপাশি ছেলেদের পাঞ্জাবি, পাজামা ও ফিউশন ধাঁচের পোশাকও রয়েছে। সুতির কাপড়ের ব্যবহার এবার বেশি চোখে পড়ছে; পাশাপাশি সিল্ক, বয়েল, খাদি ও ডেনিমেও তৈরি হয়েছে নানা ডিজাইনের পোশাক।
বিক্রেতারা বলছেন, মেয়েদের থ্রি-পিস ও টু-পিসের চাহিদা বরাবরের মতো বেশি; আর ছেলেদের মধ্যে পাঞ্জাবিই এগিয়ে।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ক্যাটস আইয়ের একটি শাখার ব্যবস্থাপক সম্রাট জানান, হিসাবমতে এবার বিক্রি ভালো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার শাখায় বিক্রি এখনো আশানুরূপ নয়। তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি কিছুটা গোলমেলে। অন্য কয়েকটি ব্র্যান্ডের আউটলেটের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের অবস্থাও প্রায় একই। তবে ক্যাটস আইয়ের কিছু আউটলেটে বিক্রি ভালো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বসুন্ধরা মার্কেটে রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, গত বছরের তুলনায় বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রত্যাশা ছিল, অন্তত ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে, সেটি হচ্ছে না।
টুয়েলভের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, অনেকের বিক্রি কম হতে পারে। তবে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা এবার গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।