হোম > অর্থনীতি

স্বস্তির পথে রিজার্ভ, সামনে অনিশ্চয়তা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

কয়েক মাস আগেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে যে চাপ ও অনিশ্চয়তা ছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। প্রায় ৩৯ মাস পর আবারও এই স্তর অতিক্রম করায় অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা তৈরি হয়েছে। তবে এই উন্নতি ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। তাঁদের মতে, সামগ্রিকভাবে রিজার্ভের এই পুনরুদ্ধার অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও সামনে ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। বর্তমান গতি ধরে রাখতে হলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ অব্যাহত রাখা, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সপ্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের উন্নতি এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা কমে আসার সম্মিলিত প্রভাবে রিজার্ভে এই পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতে যে চাপ ছিল, তা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ প্রসঙ্গে আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। একই সঙ্গে ডলার কেনার মাধ্যমে বাজারে তারল্য ব্যবস্থাপনাও রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার কিনেছে। সব মিলিয়ে গত মার্চ মাসে রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪৭৫ কোটি ডলার। এতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডলার ক্রয়ের সার্বিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় মেটাতে একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থান নির্দেশ করে। সাধারণভাবে তিন থেকে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ ধরা হয় এবং বর্তমান অবস্থান সেই সীমার মধ্যেই রয়েছে। ফলে স্বল্প মেয়াদে বৈদেশিক লেনদেনে চাপ কিছুটা কমবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তবে তাঁরা সতর্ক করছেন, এ প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি পণ্যের দামের ওঠানামা এবং ডলারের বিনিময় হারের চাপ আবারও পরিস্থিতিকে নড়বড়ে করে দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও বড় উন্নয়ন প্রকল্পে ডলার ব্যয়ের চাপ অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক, তবে এটি ধরে রাখা সহজ হবে না। দীর্ঘ মেয়াদে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে আস্থা বাড়ানো এবং ডলারের বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপরও তিনি জোর দেন।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ বর্তমানে ৩০ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২০ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল রিজার্ভ, আর সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন তা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

সামগ্রিকভাবে, রিজার্ভের এই পুনরুদ্ধার অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও সামনে ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। বর্তমান গতি ধরে রাখতে হলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ অব্যাহত রাখা, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মার্কিন প্রতিনিধি ঢাকায় আসছেন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়

৯৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতি

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ইউসিবির ২৩৫তম শাখার উদ্বোধন

রিহ্যাবের নতুন প্রেসিডেন্ট মো. আলী আফজাল ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক

বিআরবি হসপিটালস প্রতিষ্ঠার ১ যুগ পূর্তি উদ্‌যাপন

বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ ইলেকট্রোমার্টের তিনটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন

তেলের বাজার ওঠানামা করছে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে কি না প্রশ্ন হাসনাতের, যা বললেন অর্থমন্ত্রী

যেখানে গ্রীষ্ম মানেই আম, সেই রাজশাহীতে ‘অতিথি’র সঙ্গে হোক গল্প

ইউএস-বাংলার নামে কক্সবাজারে ভুয়া রিসোর্টের শেয়ার বিক্রির প্রতারণা