রমজান মাস সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ১০ হাজার টন ভোজ্যতেল ও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়া থেকে ৭৫ হাজার টন সার এবং সিঙ্গাপুর থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, ১০ হাজার টন মসুর ডাল স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কেবিসি অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে কেনা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০টি লটে এ ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রতি কেজি ডালের দাম নির্ধারণ হয়েছে ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা।
শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার টন (১০ শতাংশ+) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব আসে। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে। ফার্টিগ্লোবের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলারে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৪১০ মার্কিন ডলার।
একই সঙ্গে বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫২ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া, বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।