দেশের ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক বছরে নারী কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে। সংখ্যার বিচারে কিছু প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মী বেশি হলেও, মোট কর্মীর মধ্যে তাঁদের অংশগ্রহণ খুবই কম এবং উচ্চপদে প্রতিনিধি সংখ্যা আরও কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০৭ জন এবং নারী কর্মী ৩৬ হাজার ৮০ জন। অর্থাৎ আর্থিক খাতের মোট কর্মীর প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ নারী, আর সাড়ে ৮৩ শতাংশই পুরুষ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছরে ব্যাংক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৫৮৮ জন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মী ছিলেন ৩৭ হাজার ৬৪৯ জন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৫ হাজার ৬১ জনে।
নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মী ছিলেন ১ হাজার ৬৭ জন। এক বছর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে। অর্থাৎ এক বছরে এই খাতে নারী কর্মী কমেছে ৪৮ জন।
ব্যাংক খাতে কর্মরত নারীদের বড় অংশই বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে কাজ করেন। গত বছর ডিসেম্বর শেষে নারী কর্মীদের মধ্যে ২২ হাজার ৯৮৩ জন কর্মরত ছিলেন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ হাজার ১৪৭ নারী কর্মী রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকে ১ হাজার ৯৪৭ জন এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৯৮৪ জন নারী কর্মী কর্মরত ছিলেন।
তবে শতাংশের হিসাবে বিদেশি ব্যাংকগুলোতেই নারীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকের মোট ৩ হাজার ৯৩১ কর্মীর মধ্যে ৯৮৪ জন নারী, যা ২৫ শতাংশের বেশি। বিপরীতে সংখ্যার বিচারে বেসরকারি ব্যাংকে নারী কর্মী বেশি হলেও মোট কর্মীর তুলনায় তাঁদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট কর্মীর মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশ নারী।
পদমর্যাদার দিক থেকেও নারী কর্মীদের অংশগ্রহণে বড় বৈষম্য দেখা যায়। ব্যাংকের প্রারম্ভিক পর্যায়ে নারী কর্মীর হার সবচেয়ে বেশি, যা ১৭ শতাংশের বেশি। মধ্যবর্তী পর্যায়ে এই হার প্রায় ১৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে উচ্চপর্যায়ে বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি সবচেয়ে কম। এই স্তরে নারী কর্মীর হার মাত্র ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও উচ্চপদে প্রতিনিধিত্ব এখনো সীমিত। সাম্প্রতিক সময়ে কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়াও খাতটিতে নারীদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।