হোম > অর্থনীতি

জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জে দেশ, রিনিউয়েবল এনার্জি বাড়ানোর পরামর্শ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট: বাংলাদেশের প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মজুত কমেছে। বর্তমানে ডিজেলের মজুত দিয়ে মাত্র ১১ দিন চলা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশের প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে। এতে উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

এই সংকট দূর করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এটি করতে হলে সোলার আমদানি শুল্ক কমানো, জ্বালানির উৎসের ডাইভারসিফিকেশন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্টোরেজ সক্ষমতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, যদি তেলের দাম ১২০ ডলারের বেশি থাকে, তাহলে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬১০ বিলিয়ন টাকা)। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মোট লোকসান প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে।

গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে, শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪০% কমে গেছে এবং বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি রয়েছে। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের খরচ প্রতি ঘনমিটার মাত্র ৩ টাকা, কিন্তু আমদানি করা এলএনজির খরচ প্রায় ৫৫ টাকা, যা প্রায় ১৮ গুণ বেশি। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের এই প্রভাবে দেশের জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৩ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, এসব কারণে বাজেট ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে সরকারকে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে বেশি ঋণ নিতে হবে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল, বিদ্যুতের দাম, পরিবহন খরচ ও খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কা আছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কী সমস্যা হলো, তা নিয়েও কথা বলেছেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিন আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে দেশের শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এতে তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, ইস্পাত ও ওষুধশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

তাসকিন আহমেদের মতে, জ্বালানি সংকটের ফলে বিদ্যুৎ খাতেও বাস্তবতা উদ্বেগজনক। দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস-সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও আমদানি ব্যয়ের কারণে সরবরাহে চাপ বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের ফলে দেশের রপ্তানি খাতেও প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন তাসকিন আহমেদ। তিনি জানান, রপ্তানিতে কনটেইনারপ্রতি ভাড়া ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তাসকিন আহমেদ বলেন, এলএনজি আমদানির ৫০-৭৫ শতাংশ কাতারের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি ইউনিট ৩০ থেকে ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানিতে মাসে প্রায় ৮০ কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, স্টিল ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে কাঁচামালের ব্যয় ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধির প্রভাব লক্ষণীয়। স্টিল স্ক্যাপের মূল্য টন প্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলার এবং ওষুধের উৎপাদন উপকরণের ব্যয় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

ঢাকা চেম্বার বলছে, এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৪৫ শতাংশ এসএমই উদ্যোক্তা জ্বালানি সংকটকে ব্যবসার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীন সারওয়ার, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

৩৮ দিনে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৬৭৮ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি

আবার মার্কিন শুল্কের ভয়

ইপিবির প্রতিবেদন: মে মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ৭.০৯ শতাংশ

প্রত্যেক নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর আরও ১০–১২.৫% শুল্কারোপের পাঁয়তারা যুক্তরাষ্ট্রের

আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, তেলের দাম বাড়ল আরও ১ শতাংশের বেশি

পুনঃ তফসিল সুবিধার পরও বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত