বিজিএপিএমইএর সংবাদ সম্মেলন
২০২৬ সালকে সরকার প্যাকেজিং পণ্যের বর্ষপণ্য ঘোষণা করলেও বাস্তব সহায়তা ছাড়া এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে না বলে জানিয়েছেন গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের উদ্যোক্তারা। তাঁরা সরাসরি রপ্তানি প্রণোদনা, কাঁচামাল আমদানিতে কর-শুল্ক ছাড়, আরএমজি খাতের মতো নীতিগত সুবিধা, ব্যাংক-কাস্টমস সহায়তার পূর্ণ বাস্তবায়নসহ চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।
গতকাল রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এ সময় জানানো হয়, ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হবে চার দিনব্যাপী গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে গার্মেন্টস টেকনোলজি বাংলাদেশ-২০২৬। যৌথভাবে এই আয়োজন করছে বিজিএপিএমইএ ও এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, বিশ্ববাজারে প্যাকেজিং পণ্যের চাহিদা প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার অথচ বাংলাদেশ মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে পেরেছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও রপ্তানি প্রণোদনার অভাবে এ সম্ভাবনাময় খাত কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোতে পারছে না।
মো. শাহরিয়ার জানান, বর্তমানে এ খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চারটি কাঠামোগত সমস্যায়। প্রথমত, প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ পণ্যের রপ্তানিতে কোনো প্রণোদনা নেই। দ্বিতীয়ত, ৩০০ জিএসএমের নিচের কাগজ আমদানিতে ৫৮ থেকে ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর আরোপ করা হয়, যা উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, আরএমজি খাতের মতো ব্যাংকিং ও নীতিগত সুবিধা এ খাত পায় না। চতুর্থত, বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস ও ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান নীতিগুলো বাস্তবে এ খাতে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয় না।
বিজিএপিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় এ খাতে ৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয়। বাংলাদেশে কিন্তু আমাদের খাত কখনোই প্রণোদনার আওতায় আসেনি। এতে আমরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি।’
বিজিএপিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য যে অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও কারখানা রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করেই প্যাকেজিং পণ্যের সরাসরি রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। এতে নতুন করে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না; বরং দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রপ্তানি প্রণোদনা, কাঁচামাল আমদানিতে কর ছাড় এবং নীতিগত সহায়তা চেয়ে লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে খাতটিকে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করায় উদ্যোক্তারা আশা করছেন, ২০২৬ সালেই বড় অগ্রগতি আসবে।
গ্যাপেক্সপো-২০২৬
বিজিএপিএমইএ জানায়, গ্যাপেক্সপোর ১৫ তম আসরে ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে এবং থাকবে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি স্টল। ভারত, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানিসহ ১৮ টির বেশি দেশের কোম্পানি এতে অংশ নেবে। মেলায় গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ, প্যাকেজিং পণ্য, কাঁচামাল, মেশিনারিজ, অ্যাপারেল, ইয়ার্ন ও ফ্যাব্রিকসসহ পুরো সাপ্লাই চেইনের সর্বশেষ পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। ১৫ জানুয়ারি বিজিএপিএমইএ সদস্যদের জন্য গালা নাইট ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান, ১৬ জানুয়ারি ‘পেপার প্যাকেজিং পণ্যের সম্ভাবনা ও সমস্যা’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা ও ১৭ জানুয়ারি মেলার সমাপনী ও অ্যাওয়ার্ড প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠান হবে।