ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তল্লাশি চালিয়ে তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও-বালিয়াডাঙ্গী সড়কের রহিমানপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রাম থেকে তাঁদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সম্পর্কে আপন মামা ও ভাগনে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জেলাজুড়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পশ্চিম সরলিয়া গ্রামের মো. রাজা হাসান রাজু (২৯) ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকার মো. রাফায়েল হাসান হৃদয় (১৮)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও থেকে একটি ইজিবাইকে করে ইয়াবার একটি বড় চালান বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তের দিকে যাচ্ছে—এমন গোপন সংবাদ পান কর্মকর্তারা। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন আর রশিদের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি দল লক্ষ্মীপুর গ্রামের আনন্দ রায়ের বাড়ির সামনে ওত পেতে থাকে।
সকাল ৮টার দিকে বালিয়াডাঙ্গীগামী সন্দেহভাজন ইজিবাইকটি সেখানে পৌঁছালে ডিএনসি সদস্যরা গতি রোধ করেন। এ সময় ইজিবাইকচালকের দুই পাশে বসে থাকা দুই যাত্রীর আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে তাঁদের দেহ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে আসামি রাজা হাসানের প্যান্টের পকেট থেকে ১ হাজার ৫০০ পিস ও রাফায়েল হাসান হৃদয়ের পকেট থেকে আরও ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ডিজিটাল স্কেলে মেপে দেখা যায়, এর ওজন ৩০০ গ্রাম, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন আর রশিদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া রাজু ও হৃদয় সম্পর্কে আপন মামা-ভাগনে। তাঁরা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে সাধারণ যাত্রীর বেশে ইজিবাইকে করে এই মাদকের চালানটি নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।’
মামলার বাদী ও ডিএনসির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাকিলার রহমান বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া ইয়াবা থেকে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে বাকি আলামত সিলগালা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব আমাদের অধিদপ্তরই পালন করবে।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।