টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলামের (৭০) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলামের মরদেহের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার প্রদান করে সদর উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) তৌফিক ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। পরে টাঙ্গাইল আদালত চত্বর (হেলিপ্যাড) মাঠে প্রথম ও বিকেলে সখীপুরের বেড়বাড়ি গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সখীপুরে জানাজার আগে বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন, ইদ্রিস শিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান, সুলতান শরীফ পান্না, জাহাঙ্গীর তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক রনি আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশেষ অনুমতিতে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে জোয়াহেরুল ইসলামের মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্টে পৌঁছায়। এ সময় পরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
মরদেহ সীমান্তে পৌঁছালে তাঁকে দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় করে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্রুত চেকপোস্ট ত্যাগ করে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি টাঙ্গাইলের উদ্দেশে যাত্রা করে।
মরদেহের সঙ্গে থাকা মরহুমের ভাগনে রনি আহমেদ বলেন, ‘আমরা বেনাপোল ইমিগ্রেশনে পৌঁছালে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের কাগজপত্র দেখে পুলিশ মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি দেশে ঢোকার অনুমতি দেয়।’
উল্লেখ্য, জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৮ সালের নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থেকে ভারতে চলে যান জোয়াহেরুল ইসলাম। কলকাতার নিউটাউনে বসবাস শুরু করেন তিনি। পরে তাঁর স্ত্রী চিকিৎসা ভিসা নিয়ে ভারতে যান। পরিবার-পরিজনসহ নিউটাউনেই অবস্থান করছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে কলকাতার দমদম এলাকার ফনিক্স মেডিকেল সেন্টার নামের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। শেষের দিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।