টাঙ্গাইলের সখীপুরে এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে সহপাঠীর ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এবার হাত মেলালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তিনিও ওই মায়ের চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দৈনিক আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম।
আজ মঙ্গলবার ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, সখীপুর উপজেলার কলতান বিদ্যানিকেতনের একদল শিক্ষার্থীর নেওয়া মানবিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সহপাঠী নাঈমের ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের মাধ্যমে নাঈমের অসুস্থ মায়ের জন্য আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থী নাঈম সিকদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, খবরটি ইউএনও ফোনে তাঁকে জানিয়েছেন। তার ক্যানসারে আক্রান্ত মা লাইলী বেগম বর্তমানে খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রধানমন্ত্রী তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন—এ কথা শুনে তার খুব ভালো লেগেছে।
নাঈম আরও বলেন, কয়েক মাস আগে তার বাবা আব্দুল শিকদার ধার-দেনা করে কাতারে গিয়েছেন। কিন্তু সেখানে এখনো কোনো কাজ পাননি এবং অবৈধভাবে রয়েছেন। এ অবস্থায় মায়ের জটিল রোগ ধরা পড়ায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। সহপাঠীরা এসএসসি পাসের মিষ্টি কেনার টাকা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে, এখন প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাসে সে সাহস পাচ্ছে।
কলতান বিদ্যানিকেতনের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগে আমি আপ্লুত। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে গিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় নাঈমের পরিবার ও বিদ্যালয়ের জন্য এটি আনন্দের সংবাদ।’
উল্লেখ্য, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে সখীপুর উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মায়ের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে।
বিষয়টি জানার পর নাঈমের সহপাঠীরা সিদ্ধান্ত নেয়, এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টিমুখ না করে অসুস্থ মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে। পরে গত ১৬ আগস্ট রোববার তারা নাঈমের দাদা আব্দুস সাত্তার সিকদারের হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেয়। তাদের এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তাতে যোগ দেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও।
ওই দিন এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী ইমরান, জাহিদ ও আপন জানিয়েছিল, পাস করার আনন্দে মিষ্টিমুখ করার চেয়ে সহপাঠীর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাদের বেশি ভালো লাগছে।
এ নিয়ে ১৬ আগস্ট আজকের পত্রিকা অনলাইনে ‘এসএসসি পাসের মিষ্টির টাকা নিয়ে সহপাঠীর ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের পাশে একদল শিক্ষার্থী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মানবিক এ উদ্যোগের জন্য শিক্ষার্থীরা প্রশংসিত হয়।