হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে তিন শিশু এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি তথ্য ও চিকিৎসকদের দেওয়া বিবরণী থেকে এই চিত্র উঠে এসেছে।
সিলেট বিভাগে এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। অন্যদিকে ময়মনসিংহে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করায় নতুন করে আক্রান্তের হার কিছুটা কমে আসতে শুরু করেছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে আজ সোমবার প্রকাশিত ‘হাম ও রুবেলা রোগীর প্রতিবেদন ২০২৬’ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া (ল্যাব কনফার্মড) হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।
এর মধ্যে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার একটি ১৪ মাসের শিশু সিলেটের শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। সিলেট সদর উপজেলার ৮ মাস বয়সী এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪ মাস বয়সী একটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৮ জনকে হাম আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯ জন ভর্তি হয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ২৭০ জন রোগী হাম আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৮ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ১১ মাস বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুটি টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিল। গত ১৩ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গতকাল রোববার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের তথ্য কর্মকর্তা ডা. ঝন্টু সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে।
এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহে নতুন ভর্তি হয়েছে ১৪ জন; সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮ জন; বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু ৭৭ জন। এ ছাড়া গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৪৭৯ জন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণে আসছে।
তিনি বলেন, ‘হামের টিকা কার্যকারিতা দেখাতে শুরু করায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। এর ফলে হাসপাতালেও ভর্তির চাপ আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে।’
তবে মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব শিশু এখনো মারা যাচ্ছে, তারা কেবল হামের উপসর্গ নয়, বরং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা ও সহ-রোগেও আক্রান্ত ছিল। অপুষ্টি বা অন্য কোনো ক্রনিক রোগ থাকার কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ছিল, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।’