সিলেটের গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ১৪ বছর বয়সী নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় দাদিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মা-মেয়েসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত দাদি মৃত মাহমুদ হোসনের স্ত্রী দিলারা বেগম (৫৪)। আহত ব্যক্তিরা হলেন নাতনি (১৪) ও তার মা সাজনা বেগম।
জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে তাঁদের ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাঁর হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখাতে গিয়ে হাতে জখম করা হয়। চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়ান। দুর্বৃত্তরা তাঁর বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাৎক্ষণিক এই দৃশ্য দেখে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
তাঁদের প্রতিবেশী আলকাছ মিয়া জানান, একটি টিনের ঘরে দিলারা বেগম তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনি, এক প্রতিবন্ধী নাতি এবং ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের দুই ছেলে কয়েক মাস আগে ঋণ করে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। অন্য আরেকটি স্থানে জখম অবস্থায় পড়ে ছিলেন ওই কিশোরী ও তার মা।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আছেন। ওই পরিবার থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।