কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা। আজ রোববার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের বৈঠক শেষে এ কথা জানান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।
এর আগে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আনসারদের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় ডিউটি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন হাসপাতাল পরিচালক। এ ছাড়া মোট আটটি বিষয়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা নিজেদের দাবিদাওয়া জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
তবে আগামীকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে কাজে যোগ দেবেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা।
গত শুক্রবার রাতে সিওমেক হাসপাতালে শিক্ষানবিশ এক নারী চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন সব শিক্ষানবিশ চিকিৎসক। তবে গতকাল শনিবারের বৈঠকে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় টানা রোববারও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন তাঁরা। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করে ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আজ দুপুরে ফের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সিওমেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আনসারদের হাসপাতালের জায়গায় ডিউটি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন সিওমেক পরিচালক। এ ছাড়া মোট আটটি বিষয়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা নিজেদের দাবিদাওয়া জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
বৈঠক শেষে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান সাদিক বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আমরা কর্মবিরতি শুরু করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি পূরণে আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। তবে মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখে আগামীকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে কাজে যোগ দেবেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।’
এ সময় সিওমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎকেরা আমাদের দাবি মেনে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরাও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। ইতিমধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
শিক্ষানবিশ চিকিৎসদের দাবি
হাসপাতালে প্রতিটি অ্যাডমিশন ইউনিটে দুজন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড ও একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত থাকতে হবে। এ ছাড়া ইভিনিংয়ে (বৈকালিক) এক ঘণ্টা পরপর টহল টিম থাকবে, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। আর রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকতে হবে।
রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন অ্যাটেনডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিজিটিং টাইম চালু করতে হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো অবস্থায় একজন রোগীর সঙ্গে দুজনের বেশি অ্যাটেনডেন্ট থাকতে পারবে না।
পরিচালকের সঙ্গে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সর্বদা মিড লেভেল চিকিৎসক থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যাডমিশনের দিন।
অধিকাংশ অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় শেখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাঁদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে, তাদের হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে। নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে।
হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ারের ব্যবস্থা করতে হবে।