দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন সিলেটের চা-শ্রমিকেরা। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খাদিম চা-বাগানে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকেরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন। চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে পাঁচ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা দেওয়া এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক ও বুরজান চা-কারখানার শ্রমিকনেতা সুশান্ত চাষা।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে চা-শ্রমিকদের বর্তমান মজুরিকাঠামো অত্যন্ত অমানবিক। প্রতিবছর মাত্র ৮ টাকা করে মূল্যবৃদ্ধি চা-শ্রমিকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন ও তামাশা। বর্তমানে নির্ধারিত দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সম্মানজনক ন্যায্য মজুরি আজ দেশের প্রতিটি চা-শ্রমিকের প্রাণের দাবি।
ভূমির অধিকার বিষয়ে বক্তারা বলেন, এই ভূখণ্ডে চা-শ্রমিকদের বসবাসের ২০০ বছর হতে চললেও তাঁরা আজও ভূমিহীন। ভূমির নিজস্ব মালিকানা না থাকায় নাগরিকের সব মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ তাঁর বক্তব্যে বলেন, চা-শ্রমিকেরা আজও চরম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও এই জনগোষ্ঠী আধুনিক দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষ হয়েও তাঁরা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি আদায়ের জন্য সব বাগানের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
এর আগে খাদিম চা-বাগানের লোহারপুল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে চা-শ্রমিকেরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।