সিলেটের আদালতে যৌতুকের মামলার আসামি খালাস পাওয়ায় বাদী–বিবাদীপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন এবং দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সিলেট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন আসামিপক্ষের জামাল উদ্দিন (৫৭) ও সাদিকুর রহমান (২৯)। আর পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বাদী মোছা. নুরজাহান বেগম (৩৮) ও তাঁর আপন ছোট ভাই মনজাম মিয়া (২৮)।
আদালত থেকে খালাস পাওয়া ব্যক্তির নাম মো. আব্দুস শুকুর (৪০), তিনি মামলার বাদীর প্রাক্তন স্বামী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের চিফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের পেশকার নাজমুল ইসলাম জানান, যৌতুক নিরোধ আইনে বাদী মোছা. নুরজাহান বেগমের করা মামলার রায়ে আদালত তাঁর প্রাক্তন স্বামী মো. আব্দুস শুকুরকে খালাস দেন।
এতে বাদী এটি মেনে নিতে না পরে এজলাসের ভেতরে ঝামেলা শুরু করেন। পরে বিচারক তাঁকে বারবার বোঝালেও তিনি বুঝতে চাননি। বিচারক তাঁকে জানান যে, পারিবারিক আদালতে মামলা করলে তিনি তাঁর ভরণপোষণ পেতে পারেন। পরে তাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার পরে তৃতীয় তলায় গিয়ে এ মারামারির ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় যৌতুক নিরোধ আইনে মো. আব্দুস শুকুরকে আসামি করে একটি মামলা করেন মোছা. নুরজাহান বেগম। ওই মামলায় আজ মঙ্গলবার সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক আসামি শুকুরকে খালাস দেন।
বিচারকাজ শেষে আদালতের ষষ্ঠ তলা থেকে নেমে তৃতীয় তলায় বিবাদীর ওপর হামলা চালান বাদীসহ তাঁর লোকজন। এ সময় হামলাকারীদের চাকু ও হাতুড়ির আঘাতে আসামিপক্ষের লোকজন জখম হন।
পরে তাঁরা দৌড়ে আদালতের এজলাসে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ ও কৌঁসুলিরা হামলাকারী মোছা. নুরজাহান বেগম ও তাঁর ছোট ভাই মনজাম মিয়াকে আটক করে। তাঁদের কাছ থেকে চাকু, হাতুড়ি ও সেলাই রেঞ্জ জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় আহত জামাল উদ্দিন ও সাদিকুর রহমানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর আদালত ভবনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার রায়ে খালাস পাওয়ায় আসামির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাদী হামলা করেন। এ ঘটনায় আসামিপক্ষের দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন আর দুজনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।