গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় শেরপুরের প্রধান নদ-নদীগুলোতে পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গতকাল বুধবার বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে বিপৎসীমার ৮০ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঢলের পানি দ্রুত সময়ের মধ্যে নেমে যাওয়ায় এই পাহাড়ি ঢলে ফসল ও ঘরবাড়ির তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা যায়, গতকাল ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শেরপুর জেলার মহারশি, সোমেশ্বরী, ভোগাই ও চেল্লাখালী নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের গোল্লারপাড় এলাকায় চেল্লাখালী নদীর পাড় ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে চেল্লাখালী নদীর পানি। সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ৮০ সেমি নিচ প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে স্বস্তি দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
তবে গতকালের ঢলে গোল্লারপাড় এলাকার নদীপাড়ে অবস্থিত সায়েদা বেগম নামের এক বৃদ্ধের ঘর কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ঢলের পানিতে আমার বাড়ির সামনে নদীর পাড় ভাইঙা গেছে। আমার কিছু জমিও নদীতে চইলা গেছে। আর এইবার ঢল আইসা ঘরের সবকিছু ভাসায়া নিয়া গেছে। গতবার যদি পাড়টা ঠিক করত, তাইলে তো আমার এই ক্ষতিটা হইতো না। এখন যে রাইন্ধা খামু, সেই চালটাও নাই।’
স্থানীয় কৃষক আমির উদ্দিন বলেন, ‘গতবার ভাঙনের পর এই বাঁধটা আর ঠিক করে নাই। যদি গতবারই ঠিক করত, তাইলে কালকের ঢলে তো কারও কোনো ক্ষতি হইতো না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা আসে আর মাইপা নিয়া যায়, কিন্তু কাম তো আর হয় না।’
এদিকে চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকার ভাঙা স্থান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, কলসপাড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদসহ নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত সায়েদা বেগমকে তাৎক্ষণিকভাবে চাল, ডালসহ শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে ওই বৃদ্ধার ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের বিষয়টিও তিনি দেখবেন বলে জানান।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, এই উপজেলায় ৯০ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জায়গায় ১০ শতাংশের মতো ধান কাটা বাকি রয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ধানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চেল্লাখালী নদীর আগের ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করেছিল। তবে সেটি রাতের মধ্যেই নেমে গেছে। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি, পানি অনেক কমে গেছে। এই মুহূর্তে বন্যা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙনকবলিত জায়গাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ীভাবে মেরামত করা হবে।’