শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাতিল করা হয়েছে। ওই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল মারা যাওয়ায় নির্বাচন বাতিল করা হয়।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান এ-সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬-এর ১৪৫, শেরপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মৃত্যুবরণ করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭(১) অনুসারে ১৪৫, শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিল করা হলো।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক স্বাক্ষরিত আরেক গণবিজ্ঞপ্তিতে ঝিনাইগাতী উপজেলার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণ স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে দুপুরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ ওই আসনের সংসদ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার কথা জানান।
নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে কোনো কিছু বলার মতো অবস্থায় আমরা নেই।’
বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল নুরুজ্জামান বাদলের জানাজায় অংশ নিয়ে বলেন, ‘তিনি আমার ভাইয়ের মতো ছিলেন। আমরা দীর্ঘদিন নিভৃতে অনেক সময় কাটিয়েছি। আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’ তবে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কিছু বলেননি।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের আগে কোনো বৈধ মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়। সেই আইনানুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচন ও গণভোট স্থগিত করা হয়েছে। পরে ইসির তফসিল অনুযায়ী এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে জেলার অন্য দুটি আসনে যথানিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে মারা যান জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতাসহ ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।