আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির অন্যতম সদস্য ও নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা (৬৩) ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বদিউজ্জামান বাদশা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্রভাবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সেই নির্বাচনে তিনি মতিয়া চৌধুরীর কাছে হেরে যান।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তি জীবনে বদিউজ্জামান বাদশা ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি, নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি, বাংলাদেশ উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরামের সাবেক মহাসচিব, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। তিনি এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে বদিউজ্জামান বাদশা প্রথমে করোনা ভাইরাস ও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন। দেশে কয়েকটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার পর ২২ অক্টোবর তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেই হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, বাদশা করোনা ও ডেঙ্গুর পাশাপাশি ক্যানসারেও আক্রান্ত হন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
৮ নভেম্বর প্রথমে বিআরবি ও পরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাদশার প্রথম জানাজা রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসভবনে সকাল সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয় জানাজা ঢাকার ফার্মগেট খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্বরে সকাল সাড়ে ৯টার এবং তৃতীয় জানাজা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেলা দেড়টার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ চতুর্থ জানাজা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সরকারি তারাগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হবে।
বদিউজ্জামান বাদশা স্ত্রী, দুই সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।