শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় মা ও মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে ৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী মা। এরপর অভিযান চালিয়ে দুপুরেই ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার পোঁড়াগাও পলাশিকুড়া গ্রামের আবদুল বাছেদের ছেলে আবদুস সাত্তার (৪৫) ও সোবাহান মিয়ার ছেলে মো. সাদেক মিয়া (৩০)। বাকি অভিযুক্তরা হলেন-পলাশিকুড়া গ্রামের মো. উসমানের (৪০), ওমর আলী (৪০), মো. জাহাঙ্গির আলম (৩০), তারা মিয়া (৩২) ও মফিজ উদ্দিন (৩০)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী মা-মেয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই মা (৪০) তাঁর মেয়েকে (১৬) নিয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শেরপুর থেকে নালিতাবাড়ীতে ওই নারীর বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশিকুড়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে অটোরিকশা থেকে নেমে তাঁরা হাটতে শুরু করেন। এ সময় সাত্তার ও সাদেকের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয় এবং বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক তাঁদের মো. উসমানের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে আগে থেকে উপস্থিত ওমর আলী মুঠোফোনে মো. জাহাঙ্গির আলম, তারা মিয়া ও মফিজ উদ্দিনকে সেখানে আসতে বলেন। পরে মাকে বসতঘরে ও মেয়েকে বাড়ির পেছনে বাঁশের ঝাড়ে নিয়ে ৭ জন মিলে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করেন। পরে আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে মা-মেয়ের চিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে তার আগেই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন আজ সকালে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে বেলা ১২টার দিকে ভুক্তভোগী মা বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি আবদুস সাত্তার ও ২ নম্বর আসামি সাদেক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ওসি বছির আহমেদ বাদল বলেন, ঘটনা শুনেই এসপি ও এএসপি স্যার থানায় এসেছিলেন। মা ও মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে ওই নারী বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কাল সোমবার আদালতে পাঠানো হবে।
ওসি আরও বলেন, মা-মেয়েকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য শেরপুর পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাঁদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।