রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কোলকোন্দ গ্রোয়েন বাঁধের তলদেশ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বাঁধসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ১৫ একরের বেশি আবাদি জমি।
ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তিস্তার ডান তীর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর শহরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ মিয়া বলেন, ‘আজ পাঁচ দিন যাবৎ পানি উন্নয়ন বোর্ড, মেম্বার-চেয়ারম্যান এরা আইসে আর খালি দেখি দেখি যায়। এদের কোনো কাজের কাজ নাই। কালকা আসছিল, আসি ১০০টা বস্তা দিছে, ৪৫টা বস্তা ফালাইছে আর বাকি বস্তা নিয়ে গেছে। আইজকা যেভাবে বাধের নিচে দিয়ে পানি ঢুকবার লাগিচ্ছে, তাতে বাড়িঘর, জায়গা-জমি সবকিছু নদীত ভাসি যায় নাকি, কে জানে। হামাক বাচ্চাকাচ্চা নিয়া রাস্তার ধারত থাকা লাগবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাজেরা বেগম বলেন,`হামরা কি সরকারের কাছত টাকা-পয়সা চাই? হামরা চাই হামার ভিটা যাতে নদীত না ভাঙে, সেই স্থায়ী একটা সমাধান। এই যেভাবে পাঁচ দিন থাকি ভাঙা শুরু করছে, এভাবে যদি ভাঙতে থাকে তাহলে মেইন যে বাঁধ আছে, ভাঙি যাবে। শুধু যে হামারগুলার ঘরবাড়ি ভাঙবে, তাও কিন্তু না। এই বাঁধ ভাঙলে গঙ্গাচড়া, রংপুর সবকিছু তলে যাইবে।'
কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লাল মিয়া বলেন, ‘গতকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন আসছিল, ইউএনও স্যার আসছিল, তারা দেখে গেছে। আপাতত ভাঙন ঠেকানোর জন্য কিছু জিও ব্যাগ দিয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৪৫টার মতো জিও ব্যাগ আমরা ফেলেছি। কিন্তু আজকে আবার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র হয়েছে। তাই দ্রুত এর একটা স্থায়ী সমাধান দরকার। তা না হলে এখানে শত শত মানুষের ঘরবাড়ি এবং দুই থেকে তিন হাজার একর জমি নদীগর্ভে চলে যাবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে তিস্তার ডান তীরের ভাঙন রোধে গঙ্গাচড়া উপজেলার উত্তর কোলকোন্দ ও দক্ষিণ কোলকোন্দ সিংগীমারী এলাকায় ৩০০ মিটার করে দুটি কংক্রিটের গ্রোয়েনবাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
চলতি মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে ১ নম্বর গ্রোয়েনবাঁধে চাপ পড়েছে। বাঁধের তলদেশ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমি গতকাল কোলকোন্দ ইউনিয়নের গ্রোয়েনবাঁধে গিয়েছিলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় সেখানে কিছু জিও ব্যাগও দেওয়া হয়েছে। বাঁধের তলদেশ দিয়ে পানি ঢুকার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ রকম হয়ে থাকলে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে এখনই কথা বলছি। তারা যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’