১৫ বছরের বেশি সময় ধরে চন্দ্র মোহন (৫০) ও শ্যামলী বালার (৪৫) মধ্যে পরকীয়া চলছে। ৯ বছর আগে শ্যামলী রানীর স্বামী মারা গেছেন। অন্যদিকে চন্দ্র মোহনের তিন স্ত্রীর শেষজন মারা গেছেন দুই বছর আগে। এরপর থেকে তাঁদের পরকীয়া আরও জমে ওঠে।
তাঁদের দুজনের মধ্যে গভীর সম্পর্কের বিষয়টি গ্রামের প্রায় সবাই জানে। এ নিয়ে গ্রামে একধরনের কানাঘুষা রয়েছে। বিষয়টি শ্যামলী রানীর পুত্রবধূর কান পর্যন্ত চলে আসে। গত সোমবার পুত্রবধূ এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামলী রানী লজ্জায় পড়েন। এ জন্য সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন শ্যামলী। তবে বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি চন্দ্র মোহন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জরুরি কথা আছে বলে চন্দ্র মোহন বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে গাছতলায় ডেকে নেন প্রেমিকা শ্যামলী বালাকে। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে তাঁর পেটে উপর্যুপরি আঘাত করেন চন্দ্র মোহন। তাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান শ্যামলী। এরপর নিজের গলায় ছুরি চালান চন্দ্র মোহন।
এ সময় চিৎকার দেন শ্যামলী বালার নাতনি বৃষ্টি রানী। এরপর স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে শ্যামলীর লাশ উদ্ধারসহ আহত চন্দ্র মোহনকে হাসপাতালে পাঠান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর ভানোর ইউনিয়নের বিশ্রামপুর দিঘীরকোণ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শ্যামলীর ছেলে দীপচরণ তাঁর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত শ্যামলী বালা ওই গ্রামের মৃত বীরেন চন্দ্রের স্ত্রী আর তাঁর প্রেমিক চন্দ্র মোহন একই গ্রামের আলসিয়া মোহনের ছেলে। শ্যামলী বালার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে চন্দ্র মোহনের তিনজন স্ত্রী ছিলেন। বাকি দুজন আগেই মারা গেছেন। সর্বশেষ স্ত্রী মারা যান দুই বছর আগে। তিন স্ত্রীর সংসারে পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে তাঁদের দুজনের সম্পর্ক চলছিল। দুজনের স্বামী-স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাঁদের মধ্যে বিয়ে মেনে নিতেও চেয়েছিল উভয়ের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হঠাৎই সম্পর্কের অবনতি হয়ে এমন ঘটনা ঘটবে কেউ কল্পনা করেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আনাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে। চন্দ্র মোহনকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
ওসি আরও বলেন, পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শ্যামলীর লাশ ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।