হোম > সারা দেশ > রংপুর

১৪ লাখ টাকার স্পার এক দিনের বন্যায় শেষ, ভাঙনের মুখে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

স্পারের ভাঙনের সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাত্র চার মাস আগে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় নির্মাণ করা হয়েছিল দ্বৈত সারির বাঁশের স্পার (পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য অস্থায়ী কাঠামো)। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। তবে বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রথম পানির চাপেই স্পারের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর ভেতরে নির্মিত এই স্পার স্থায়ী হবে না বলে শুরু থেকেই আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সে আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেননি।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর পশ্চিম পাশে প্রায় ২২০ মিটার এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বাঁশের দ্বৈত সারির স্পার নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা ছিল, বর্ষার সময় তিস্তার পানির চাপ কমিয়ে এটি সেতু রক্ষা বাঁধকে সুরক্ষা দেবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোন্নাফ মিয়া বলেন, ‘স্পার নির্মাণের সময় আমরা বলেছিলাম, নদীর মধ্যে এভাবে নির্মাণ করা হলে এটি টিকবে না। পানি আসলেই ভেঙে যাবে। কিন্তু তখন আমাদের কথা শোনা হয়নি। এখন সামান্য পানির চাপেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

মোন্নাফ মিয়া অভিযোগ করেন, ‘এ ধরনের কাজ হলে তা মানুষের আস্থার জায়গা নষ্ট করে।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্পার নির্মাণের পর থেকেই এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বর্ষা শুরু হওয়ার পর তাঁদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘আমরা আর কী বলব, আমাদের বলার ভাষা নেই। তিন বছর ধরে এই বাঁধ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।’

স্পারের ভাঙনের সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় অস্থায়ী নয়, স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, ‘আমরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। বাঁশের স্পারটি ঢাকার প্রকৌশলীদের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি তাঁদেরও জানানো হয়েছে।’

এলজিইডির রিভার ট্রেনিং ইঞ্জিনিয়ার কনসালটেন্ট ড. প্রকৌশলী লুৎফর রহমান বলেন, ‘দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় নির্মিত দ্বৈত সারির বাঁশের স্পারটি ছিল পরীক্ষামূলক ও স্বল্প ব্যয়ের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ড. প্রকৌশলী লুৎফর রহমান বলেন, ‘কচুরিপানা এসে স্পারে জমা হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করায় কিছু অংশ ভেঙে গেছে।’

২০১৮ সালে উদ্বোধন হওয়া দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই সেতু বাঁধ রক্ষায় নির্মিত স্পার মাত্র চার মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন।

রংপুরে ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যার অভিযোগ

বরাদ্দ অর্থ নিয়ে নয়ছয়: পীরগঞ্জে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ইউপি সদস্যদের জোড়াতালির কাজ

রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

মাইকিং করেও মেলেনি সন্ধান, বাড়ির অদূরে পাটখেতে মিলল শিশুর মরদেহ

দখল-দূষণে প্রাণ যায় আলাই নদের

বিয়ের প্রলোভনে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

রংপুরে হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ, এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় বেরোবি ছাত্রদল নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি

পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, প্রথম পর্যায়ে পেলেন ৬৬৫ জন