রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আরাজী বীরচরণ গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবক পলাশের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মোজাহার আলী উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আরাজী বীরচরণ গ্রামের মৃত সাদুল্ল্যাহর ছেলে।
আজ বুধবার রাতে উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারি গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন জানান, পলাশদের অংশীদারি সম্পত্তির এক শতাংশ জমি তাঁর চাচা একই এলাকার জাফরের কাছ থেকে গোপনে ক্রয়ের চেষ্টা করেন একই এলাকার মোজাহার আলী। পরে ১০ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে মোজাহারের কাছে জমি ক্রয়ের বিষয়ে জানতে চান পলাশ। এতে ক্ষিপ্ত হন মোজাহার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে চাচা জাফর সেখানে গিয়ে পলাশকে চড়-থাপ্পড় দেন। এরই মধ্যে মোজাহার বাগ্বিতণ্ডার বিষয়টি তাঁর দুই ছেলে সাব্বির, সজিবসহ আত্মীয়দের জানান। পরে রাতে পলাশ ও তাঁর মা সাহেবগঞ্জ মাছের বাজারে এক ব্যক্তির কাছে টাকার জন্য যান। সেখানে মোজাহারের আত্মীয় সোনা মিয়া প্রথমে পলাশকে মারধর করেন। আত্মরক্ষায় পলাশ সেখান থেকে দৌড়ে তিনমাথা মোড়ে বাজারে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মোজাহার ও তাঁর ছেলেরাসহ কয়েকজন যুবক লোহার রড, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পলাশকে মারধর করেন। চিৎকারে ছেলেকে বাঁচাতে পলাশের মা ও মেজ ভাই আশরাফুল এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর করেন মোজাহারের লোকজন। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহতাবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পলাশকে গত সোমবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর ৫টার দিকে পলাশের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপন করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার পরিদর্শক অশোক চৌহান বলেন, দুপুরে মামলা হওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। মামলার সাত ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।