বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে গতকাল সোমবারের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মুখোমুখি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে একই স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দুই সংগঠন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তা জারি হয়নি।
মুখোমুখি কর্মসূচির ঘোষণায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দুই সংগঠন একই সময়ে একই স্থানে অবস্থান নিলে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে একাডেমিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম রবি বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত আবু সাঈদ চত্বরে তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি রয়েছে।
অন্যদিকে মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সামছুল ইসলাম বলেন, বেরোবিতে ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদ এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে লালবাগ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আবু সাঈদ চত্বরে সমাবেশ করা হবে।
একই স্থানে দুই সংগঠনের কর্মসূচির ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল সোমবার রাতে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সংঘর্ষে পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একই স্থানে নতুন করে দুই সংগঠনের কর্মসূচির কারণে ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিকেলের কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই সংগঠনের কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়নি; বিষয়টি বিবেচনাধীন।