পাহাড় আর হ্রদের সৌন্দর্যে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে কাপ্তাই। নির্বাচনের আগে শেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গত শুক্রবার এখানে ঢল নামে পর্যটকদের। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসে তারা।
নৌবাহিনী পরিচালিত লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট এবং কাপ্তাই এসএসডি ঘাটে ব্যস্ততা ছিল লক্ষণীয়। একের পর এক ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছেড়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের দিকে। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপভোগ করছেন, কেউবা আবার বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে ছবি তুলছেন। পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি শিপইয়ার্ড কোম্পানিতে কাজ করেন শুভ ও আবিদ। প্রথমবারের মতো কাপ্তাইয়ে এসেছেন তাঁরা। জানালেন, শতাধিক লোক নিয়ে যাচ্ছেন নতুন পিকনিক স্পট রাইংখ্যং আইল্যান্ডে।
রাউজান থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে এসেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আতাউল। উঠেছেন শিলছড়ি নিসর্গ রিভার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউসে। থাইল্যান্ডের আদলে গড়ে ওঠা পড হাউসগুলো আকৃষ্ট করেছে তাঁদের। বিশেষ করে এগুলো থেকে কর্ণফুলী নদীর মনোরম দৃশ্য খুবই উপভোগ্য।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকা থেকে ফ্লোটিং প্যারাডাইসে দুপুরের খাবার খেতে এসেছেন রঞ্জন চৌধুরী। বললেন, কাপ্তাইয়ের প্রতিটি পরতে সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। বিশেষ করে ফ্লোটিং প্যারাডাইস থেকে কর্ণফুলী নদীর অপরূপ সৌন্দর্য এবং সীতা পাহাড়ের মায়াবী রূপ যে কাউকে আকৃষ্ট করবে।
সেনাবাহিনী পরিচালিত কাপ্তাই লেকশোতে কথা হয় রাঙ্গুনিয়া থেকে আসা অভিজিতের সঙ্গে। বন্ধুদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানোর কথা জানালেন তিনি।
পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন ও রমজানের আগে শেষ শুক্রবার হওয়ায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য তাঁরা দিনটি বেছে নিয়েছেন।
শিলছড়ি চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট অ্যান্ড রিসোর্ট, বনশ্রী পর্যটনকেন্দ্র, ওয়াগ্গাছড়া প্যানোরোমা জুম রেস্তোরাঁর মতো স্পটগুলোতেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। রিসোর্টগুলোও পর্যটকে ভরপুর। কেউ বোট নিয়ে হ্রদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউবা ছবি তুলছেন।
শিলছড়ি নিসর্গ রিভার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউসের ব্যবস্থাপক মিনহাজ উদ্দিন জানালেন, গত শুক্র ও শনিবারের জন্য মাসখানেক আগেই তাঁদের সব কটেজ বুকিং হয়ে যায়। শিলছড়ি ফ্লোটিং প্যারাডাইসের প্রতিষ্ঠাতা হাজী মোহাম্মদ মইন উদ্দিন জুয়েল বলেন, মাঝখানে কর্ণফুলী নদী আর দুই পাশে রাম-সীতা পাহাড়ের পাদদেশে কাপ্তাই লেকের মাছসহ পাহাড়ি খাবারের জন্য আমাদের রেস্টুরেন্টে ভিড় করছেন পর্যটকেরা। ফল বিক্রেতা এ আর খান বলেন, এখানে প্রচুর পাহাড়ি আনারস পাওয়া যায়। এগুলো পর্যটকদের খুব পছন্দের।