রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঘরের আড়ার একই দড়িতে মা-ছেলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। পরে খবর পেয়ে তাঁদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার বিকেলে উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের মাইপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
মা-ছেলের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেন পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঘরের দরজা ভেঙে মা-ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
নিহতদের নাম শান্তনা বেগম (২৮) ও তাঁর একমাত্র ছেলে জিহাদ (৫)। তারা মাইপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী জয়ের স্ত্রী ও ছেলে।
মোহাম্মদ আলী জয় জানান, তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। আজ বিকেলে বাড়ি এসে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। অনেক ডাকা ডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেখেন স্ত্রী-ছেলের লাশ ঘরের আড়ায় একই দড়িতে ঝুলছে। এরপর খবর দিলে থানা-পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের বড় বোন রোখসানা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ কী কারণে আমার বোন ও ভাগনে ফাঁস দিল, তা রহস্যজনক। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল। সে কারণে ওই গৃহবধূ তাঁর ছেলেকে ফাঁস লাগিয়ে নিজেও একই কায়দায় আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে আমরা ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানায় এনেছি।’
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ দুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। আগামীকাল সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর রহস্য বের হবে।’