রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চলতি জুলাইয়ে মোট ৫০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন মারা গেছেন। এর আগে গত জুন মাসে এখানে মারা গেছেন ৪০৫ জন।
বৃহস্পতিবার সকালে রামেক হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে নতুন ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীর চার, পাবনার পাঁচ, নাটোরের তিন, কুষ্টিয়ার দুই এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও বগুড়ার একজন করে মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন করোনা পজিটিভ ছিলেন।
বাকি ১২ জনের মধ্যে ১০ জন মারা গেছেন করোনা উপসর্গ নিয়ে। আর দুজনের করোনা নেগেটিভ থাকলেও শারীরিক নানা জটিলতায় কোভিড ইউনিটে মারা গেছেন। করোনা পজিটিভ পাঁচজনের মধ্যে পাবনার দুজন এবং রাজশাহী, নাটোর ও বগুড়ার একজন করে রোগী ছিলেন।
মৃত ১৭ জনের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও আটজন নারী। তাঁদের মধ্যে ১১-২০ বছর বয়সের একজন পুরুষ, ২১-৩০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী; ৩১-৪০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী; ৫১-৬০ বছরের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী এবং ষাটোর্ধ্ব চারজন পুরুষ ও দুজন নারী ছিলেন।
হাসপাতালে করোনা ডেডিকেটেড শয্যা ৫১৩টি। বৃহস্পতিবার সকালে ভর্তি ছিলেন ৪১৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩২ জন। হাসপাতালে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৯২। উপসর্গ নিয়ে আছেন ১৭২ জন। এ ছাড়া করোনা নেগেটিভ হলেও শারীরিক নানা জটিলতায় কোভিড ইউনিটে ভর্তি ছিলেন আরও ৫১ জন রোগী।
বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে রাজশাহীর ১৮৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫, নাটোরের ৭৩, নওগাঁর ৩৯, পাবনার ৭৪, কুষ্টিয়ার ১৩ এবং চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জের দুজন করে রোগী ভর্তি ছিলেন।
রাজশাহীর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ও আরটি-পিসিআর মিলে বুধবার রাজশাহীতে ৯৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ২১২ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ২২ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর শুধু পিসিআর ল্যাবে সংক্রমণের হার ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।