রাজশাহীর দুর্গাপুরে শিশু হুমায়রা জান্নাত (৪) হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে হাটকানপাড়া বাজার এলাকা। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। আজ রোববার বিকেলে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স থেকে হুমায়রার মরদেহ নামানো হয়।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্দেহভাজন রাজীব হাসানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাড়িটি ঘিরে রাখেন পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা। রাজীব সম্পর্কে নিহত শিশুর বাবা হাসিবুল হোসেন শান্তর চাচাতো ভাই।
এর আগে বেলা ৩টার দিকে হুমায়রার মরদেহ হাটকানপাড়া বাজারে আনা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় জানাজা শেষে দাফনের কথা থাকলেও গ্রামবাসীর উদ্যোগে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মরদেহ দাফনে বাধা দিয়ে চার ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ঘটনাস্থলে যান পুঠিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। তাঁদের হস্তক্ষেপে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন রাজীব হাসানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন যুবক জানান, গতকাল শনিবার দুপুরে রাজীবের বাড়ির সামনে থেকে শিশু হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহের তির তাঁর দিকেই।
জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে আছি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিশুর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। আমরা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্তের অগ্রগতি পরে জানানো হবে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হুমায়রা। এরপর গতকাল বেলা ২টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত একজন ওষুধ ব্যবসায়ী।