রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২ শিক্ষার্থীকে পেটালেন সালাউদ্দিন আম্মারসহ শিবির নেতারা। পরে ওই দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর পুলিশ তাদের ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুরানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন আনাস ও হাসান। তারা উভয়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
আজ সোমবার রাতে ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্ররাজনীতির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন আনাস ও হাসান।
দুই শিক্ষার্থীকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত মামলায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। এটি পুলিশের দায়ের করা মামলা।
এর আগে আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে এক বৈঠক চলাকালে আনাস সেখানে গেলে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির এবং সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও প্রক্টর তাকে ছেড়ে দেন।
এরপর আনাস ও তার সঙ্গীরা রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে রাকসুর মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজমুস শাকিব আহত হন।
হামলার পর আনাস ও তার সঙ্গীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসানসহ রাকসু নেতা, হল সংসদের নেতা ও শাখা শিবিরের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। একই সঙ্গে রাকসু ও শাখা শিবির রাকসু কার্যালয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।