চাহিদার চেয়ে আলুর উৎপাদন বেশি এবং পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। আলু উৎপাদন ও হিমাগারে সংরক্ষণ বাবদ কেজিতে খরচ হচ্ছে ১৮ থেকে সাড়ে ১৯ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকায়। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজি হারাতে বসেছেন অনেকেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তানোরে হিমাগার রয়েছে ৫টি। এগুলো হচ্ছে এ এম কোল্ড স্টোরেজ, আল মদিনা সীডস স্টোরেজ, তামান্না পটেটো কোল্ড স্টোরেজ, রহমান পটেটো কোল্ড স্টোরেজ, রহমান ব্রাদার্স কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড। তানোরে গত মৌসুমে ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। উৎপাদন হয়েছে তিন লাখ ৬৮ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন আলু। পাঁচটি হিমাগারে সংরক্ষিত হয়েছে ৮২ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আলু।
উপজেলার কালনা মিরাপাড়া গ্রামের আলুচাষি রানা আহম্মেদ ও ধানতৈড় গ্রামের মুরসালিন শেখ জানান, প্রতি কেজি আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করতে খরচ পড়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা। অথচ বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা। লোকসানের কারণে কৃষকেরা আলু বিক্রি করতে চাচ্ছেন না। তার ওপর ক্রেতার সংকটও রয়েছে। উপজেলার শত শত আলুচাষির একই দশা।
সরকারিভাবে আলুর দাম নির্ধারণ ও রপ্তানির উদ্যোগ নিলে আলুর ন্যায্য দাম পাওয়া যেত বলে মনে করেন, ব্যবসায়ী ও কোল্ড স্টোরেজ মালিকেরা।
উপজেলার রহমান ব্রাদার্স কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ম্যানেজার আব্দুল মান্নান জানান, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সংরক্ষিত আলুর ওপর বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে। কাজেই আলু বিক্রি না হলে হিমাগার মালিকেরাও ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামিমুল ইসলাম বলেন, তানোরের মাটি আলু চাষের জন্য খুব উর্বর। এ জন্য প্রতি বছর ফলনও ভালো হয়। এ বছর চাহিদার চেয়ে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। আলু রপ্তানির অনুমতি পেলে কৃষকদের লোকসান এড়ানো যাবে বলেও মনে করেন তিনি।