হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাজশাহী: ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৪৫ লাখ টাকা লুট

  নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

প্রকল্পের নাম বীর গোয়ালিয়া গ্রামের বাবুলের বাড়ি থেকে দিপু মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট। রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এ প্রকল্পে খরচ দেখিয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। অথচ সরেজমিনে ওই গ্রামে দিপু মাস্টার নামের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে বাবুল নামে গ্রামে এক ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁর বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তায় কাদাপানি। কথা হয় গ্রামের বাসিন্দা নাজিজ হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ গ্রামে দিপু মাস্টার নামের কেউ নেই। এখন আপনি খুঁজে দেখতে পারেন। কোথায় মাটিভরাট হয়েছে সেটাও দেখেন?’

বীরগোয়ালিয়া গ্রামেরই বাসিন্দা বড়গাছি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গাজিয়ার রহমান। তিনিও দিপু মাস্টারের খোঁজ দিতে পারলেন না। ৭ লাখ ৫ হাজার টাকায় কোথায় মাটি ভরাট করা হয়েছে জানতে চাইলে গাজিয়ার বলেন, ‘না, না, না ভাই। এ রকম কোনো কাজ হয়নি। ৭ লাখ টাকার মাটি ফেললে রাস্তা এই অবস্থায় থাকে!’

বড়গাছি ইউনিয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর (১ %) খাত থেকে সম্প্রতি অর্ধকোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ২৪ মার্চ ১৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ২ জুন ১৬ হাজার ৮৪ হাজার টাকা এবং ১৮ নভেম্বর ১০ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ এসেছে।

কাগুজে প্রকল্প দেখিয়ে এই ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকায় লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তজিবুর রহমান, শামসুল ইসলাম ও সোহেল রানা নামের তিন ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, বড়গাছি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা লোপাট করছেন। এর মধ্যে দাদপুর গফুরের বাড়ি থেকে বড়পুকুর পর্যন্ত রাস্তার কাজ দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, দাদপুর জোনাবের বাড়ি থেকে মুকুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, দাদপুর দাখিল মাদ্রাসায় বেঞ্চ ও ফ্যান সরবরাহের নামে ৫২ হাজার টাকা, বাগিচাপাড়া ময়নার বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দেখিয়ে ২ লাখ টাকা, দাদপুর চকপাড়া মিলনের বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইয়ের নামে ২ লাখ টাকা, বাগিচাপাড়া আসাদুলের বাড়ি থেকে ইদ্রিসের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার সিসি ঢালাই দেখিয়ে ২ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোথাও নামসর্বস্ব মাটি ফেলে আবার কোথাও কোনো কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। বড়গাছি ইউপির ডালাপুকুরের সাদেকের বাড়ি থেকে নাজিরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দিয়ে উন্নয়নের নামে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪০ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। জানা যায়, এখানে মাটির কাজই হয়নি।

ইউপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হেলাল উদ্দীন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তিনি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এর পর থেকেই নামসর্বস্ব প্রকল্প দেখিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। আর এ জন্য বরাদ্দের ১৫-২০ শতাংশ অর্থ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। ফলে ভুয়া প্রকল্পে সরকারি অর্থ লুটপাট হলেও নজরদারি করা হয় না।

জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমার প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয় না। আমি সব কাজ সুন্দরভাবে করি। ভুয়া প্রকল্প যদি থাকে সেটা আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে হতে পারে।’

এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আর রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

পানিহীন পদ্মায় মাঝনদীতেও বালুচর, ডিসেম্বরের পর পানি আসবে কি

রেশমশিল্প পুনরুদ্ধারে ব্র্যাকের অংশগ্রহণ চান ভূমিমন্ত্রী

চালু হলো আঞ্চলিক নিক্স পপ, রাজশাহী বিভাগে বাড়বে ইন্টারনেটের গতি

এনআইসিইউতে রাখা দুই যমজ নবজাতকের শরীরে অকার্যকর সব অ্যান্টিবায়োটিক, শঙ্কায় মা-বাবা

শনিবার রাজশাহীতে ১১ দলের সমাবেশ

কাজ না পেয়ে ঠিকাদারের চোটপাট, কর্তৃপক্ষ বলল মাদকাসক্ত

বিদেশিদের হেনস্তাকারী আকাশের বিলাসী জীবন

হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও অব্যবস্থাপনার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

বাঘায় অর্ধকোটি টাকার জিরা আত্মসাতের অভিযোগ, থানায় মামলা

ফেসবুকে পোস্ট, বিএমডিএ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত