উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব, সুশাসন, বৈচিত্র্য ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে চার দিনব্যাপী স্টাডি ট্যুরে যাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। আগামী শনিবার (১৩ জুন) থেকে ১৬ জুন এ সফরে ড. ফরিদুল ইসলাম ছাড়াও দেশের মোট ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অংশ নেবেন।
সফরের মূল লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব, সুশাসন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় অস্ট্রেলিয়ার উৎকৃষ্ট চর্চাসমূহ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে মেলবোর্নে পৌঁছে অংশগ্রহণকারী উপাচার্যরা স্থানীয় পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক রীতিনীতি বিষয়ে আয়োজিত একটি পরিচিতিমূলক অধিবেশনে অংশ নেবেন। দ্বিতীয় দিনে তারা অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করবেন।
তৃতীয় দিন রাবি উপাচায ড. ফরিদুল ইসলাম মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা অধ্যয়ন কেন্দ্রের আয়োজনে ‘উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করবেন। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নেতৃত্ব বিকাশ, আর্থিক ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া তিনি মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সফরের শেষ দিনে ‘বৈচিত্র্য ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি (আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও আন্তপরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বিশ্লেষণ)’ বিষয়ক আলোচনা, গোলটেবিল বৈঠক এবং ভাবনা-বিনিময় সভায় অংশ নেবেন উপাচার্যরা। এ সময় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি, সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শিক্ষা ও গবেষণায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে এই সফরে ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে।
এ বিষয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই সফর থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সহায়ক হবে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা উচ্চশিক্ষা খাতকে আরও গতিশীল, সুশাসিত এবং বৈশ্বিক মানসম্পন্ন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।