পৌরবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে প্রথম ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে নেত্রকোনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পরিচ্ছন্ন নেত্রকোনা বিনির্মাণ এর আওতায় শহরের জয়ের বাজার মোড়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং বাজারের ভেতরে বর্জ্য ফেলার জন্য প্রাথমিকভাবে মোট ৫০টি প্লাস্টিকের ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়। এ সময় পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনশি উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার নেত্রকোনা পৌরসভা ভবনে সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির নিচতলায় ৫০টি ডাস্টবিন ড্রাম সারি করে রাখা হয়েছে। যেগুলো আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হবে বলে মেয়র জানিয়েছেন।
শহরের মেছুয়া বাজার এলাকার মনিহারি দোকানি ইসমাইল হোসেন বলেন, 'এখানে সবজি ও মাছের আড়ত আছে। যে কারণে সমস্ত মেছুয়া বাজার এলাকা আবর্জনায় পরিপূর্ণ থাকে। পৌরসভার স্থায়ী ডাস্টবিনটিও ব্যবহার করে না অনেকেই। ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন হলে খুবই ভালো হবে।'
শহরের জয়ের বাজার এলাকায় মাছ কিনতে আসা শিক্ষক আব্দুল মোমেন বলেন, ' নেত্রকোনা শহরটি খুবই ছোট। আগে এর অবস্থা আরও খারাপ ছিল। বর্তমান মেয়র দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়েছে। তিনি ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন স্থাপনের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা খুবই ভালো। এতে করে শহরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে।'
শুক্রবার পৌরভবনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নৈশপ্রহরী এনায়েত আলীকে ছাড়া সংশ্লিষ্ট আর কাউকে পাওয়া যায়নি। এনায়েত আলী বলেন, 'গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের জয়ের বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এখনো নিচের করিডরে ড্রাম ডাস্টবিনগুলো রাখা হয়েছে। স্যারেরা নেই। ডাস্টবিন স্থাপন কবে শুরু হবে আমি ঠিক বলতে পারব না।'
নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্বোধন গতকাল বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই ৫০টি ডাস্টবিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে পুরো শহরের সব বাজারে এই ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে পৌরবাসী যেন সব ময়লা-আবর্জনা আর নদীতে বা অন্য কোথাও না ফেলেন সে আহ্বান জানান তিনি।