রাজশাহীতে এটিএম বুথে কৌশলে অন্য ব্যক্তির ৩ হাজার টাকা তুলে নেওয়ায় হাসিবুর রহমান নামের এক যুবককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে আসামিকে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান এ রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবদুস সবুর নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এক গ্রাহক ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন, এটিএম বুথে তাঁর হিসাব থেকে লেনদেন হয়েছে। কিন্তু তিনি টাকা পাননি। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক যুবককে শনাক্ত করে। তিনি কৌশলে বুথ থেকে আবদুস সবুরের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ হাজার টাকা তুলে নেন। ভিডিও ফুটেজে ওই যুবককে দেখা গেলেও তাঁকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না।
এ নিয়ে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ডাচ বাংলা ব্যাংকের রাজশাহী শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক আবু আলী মো. আরিফুর রহমান নগরীর বোয়ালিয়া থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে আসামি হাসিবুর রহমানকে শনাক্ত করে। পরে হাসিবুর নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে হাসিবুর জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে প্রথমে গ্রাহকের মোবাইল এবং পিন নম্বর দিতে হয়। তখন গ্রাহকের মোবাইলে একটি গোপন পিন নম্বর পাঠানো হয়। সেই গোপন নম্বরটি বুথে দিলেই কেবল টাকা ওঠে। গ্রাহক আবদুস সবুর যখন বুথে টাকা তুলছিলেন, তখন তিনি তাঁর পাশে আরেকটি বুথে ছিলেন। আবদুস সবুর বুথে যে মোবাইল নম্বর ও পিন দিচ্ছিলেন, তিনিও তা দেখে দেখে বুথে দিয়েছেন। তারপর সবুর বুথে তাঁর মোবাইলে আসা গোপন পিন নম্বরটি দিলেই হাসিবুর যে বুথে ছিলেন সেখানে ৩ হাজার টাকা বেরিয়ে আসে। অথচ টাকার অঙ্কটি বুথে বসিয়েছিলেন আবদুস সবুর নিজেই। হাসিবুর টাকা পেয়েই বুথ থেকে চলে যান। আর লেনদেন সফল হলেও সবুর টাকা পাননি।
আইনজীবী ইসমত আরা আরও জানান, এ মামলায় আদালত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে আসামিকে সাজা দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।