রাজশাহীর বাঘায় মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অমূল্য চন্দ্র প্রামানিক (৫৪) নামের এক স্কুলশিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। আজ সোমবার নিজ বাড়িতে বিষপানে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বেনুপুর গ্রামের মৃত সুরেন্দ্রনাথ প্রামানিকের ছেলে। তিনি উপজেলার তেঁথুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন।
জানা যায়, ওই স্কুলশিক্ষক দীর্ঘদিন থেকে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েও ভালো হননি তিনি। গতকাল রোববার সকালে তাঁকে বাড়িতে রেখে স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। তারপর থেকে তাঁর মাথার যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। এরপর তিনি বিষপান করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করেন। এরপর রামেকে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
এ বিষয়ে অমূল্য চন্দ্র প্রামানিকের ভাতিজা বিপ্লব চন্দ্র প্রামানিক বলেন, ‘সোমবার সকালে চাচা বাড়ি থেকে বাইরে বের হননি। আমি তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখি চাচা বিছানায় শুয়ে আছেন। আমি সেখানে গিয়ে দেখি, চাচার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে এবং বিষের গন্ধ বের হচ্ছে। এ সময় সেখানে একটি বিষের বোতল পড়ে দেখি। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চাচাকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তবে চাচা দীর্ঘদিন থেকে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন।’
বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ তুফান বলেন, ‘তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আমার সঙ্গে শিক্ষকের সপ্তাহখানেক আগে কথা হয়েছিল। তাঁর সকল ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে। কিন্তু ওষুধ খেয়েও মাথার যন্ত্রণা ভালো হচ্ছিল না বলে আমায় জানিয়েছিলেন তিনি।’
বাঘা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অমূল্য চন্দ্র প্রামানিক যে বিষপান করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নাই। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।