ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদ্বোধন করা হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রাজশাহী নগরের সোনাদীঘির পারে পুরোনো ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের প্রায় এক একর জায়গায় নির্মিত হয়েছে স্থায়ী এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণের পর একুশের প্রথম প্রহরে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। শনিবার একুশের প্রথম প্রহরেই সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার প্রমুখ। পরে সেখানে তাঁরা গাছের চারা রোপণ করেন। একুশের প্রথম প্রহরে এখানে রাজশাহী মহানগর বিএনপিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এই প্রথম সবাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন। এত দিন নগরের ভুবনমোহন পার্ক শহীদ মিনার ও রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হতো।
২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু। তবে শুরুতে জেলা পরিষদ জায়গাটি শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনকে দিচ্ছিল না। এ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। ঝুলে যায় নির্মাণের প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত জেলা পরিষদই এটির নির্মাণকাজ শেষ করে। এই জায়গায় থাকা সার্ভে ইনস্টিটিউটটিও আগে জেলা পরিষদ পরিচালনা করত।
ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর সর্বস্তরের পেশাজীবী ছাত্র-জনতার গৌরবময় ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস এলাকায়। কিন্তু এই শহীদ মিনারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনো মেলেনি। রাজশাহী কলেজের সেই প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এবার একুশের প্রথম প্রহরেই সেখানে হাজারো মানুষের ঢল নামে। আর এবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরে খুশি রাজশাহীবাসী।
জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, সবাই এখন থেকে এক জায়গায় ফুল দিতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীবাসীর দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের। সেই দাবি পূরণ হয়েছে। শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিকতা না করে প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।