ফাঁকা জায়গায়, বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের জন্য আদা চাষ, বর্ষাকালীন টমেটো ও কাঁচামরিচ উৎপাদন এবং আম-লিচু সংরক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কৃষকদের আয় বাড়ানো, উৎপাদন বহুমুখীকরণ ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত আদা চাষিদের তালিকাভুক্ত করে বীজ, সার ও বস্তাসহ প্রয়োজনীয় সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী বিভাগের আম, লিচু, আদা, কাঁচামরিচ ও টমেটো চাষি এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় তিনি কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন এবং কৃষির আধুনিকায়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণের জন্য প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ফসল উৎপাদনে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে আমবাগানের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় মাটিতে ও বস্তায় আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া তুলার সঙ্গে আদা ও হলুদ চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করেন তিনি।
আমদানিনির্ভরতা কমাতে গ্রাফটিং প্রযুক্তি ও পলিশেডের মাধ্যমে বর্ষাকালীন টমেটো ও কাঁচামরিচ চাষ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিকল্পিত উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী আম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রসঙ্গে আমিন উর রশিদ বলেন, আমের পচনশীলতা রোধে বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫ দিন এবং পরবর্তী সময়ে ৯০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি শুকনো আমসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং লিচু সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
সভায় মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভার্মি কম্পোস্টসহ জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানো, অনুমোদিত বালাইনাশকের সীমিত প্রয়োগ, পরিপক্ব অবস্থায় তুলা সংগ্রহ এবং সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।