এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুই যুবক লাঠি হাতে প্রস্তুত। মোবাইলে ক্যামেরা প্রস্তুত করে একজন বললেন, ‘চালু করে দিয়েছি।’ এরপরই দাঁড়িয়ে থাকা দুজন বেঁধে রাখা তরুণকে লাঠিপেটা করতে শুরু করলেন। রোববার রাজশাহীর মতিহার থানা এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম মো. তুষার (১৮)। তাঁর বাড়ি মতিহার থানার কাজলা বিলপাড়া মহল্লায়। তাঁকে লাঠিপেটা করার দৃশ্য ভিডিও করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ৪৫ সেকেন্ডে দুজন মিলে লাঠি দিয়ে ১৪ বার আঘাত করেন গাছে বেঁধে রাখা তুষারকে। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়েই ওই দুজনকে পেটাতে দেখা যায়। ওই সময় তুষার শুধু ‘ও মা, ও মা’ করছিলেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারের চোটে তুষার আকুতি জানিয়ে বলছিলেন, ‘হৃদয়, একটু দাঁড়াও ভাইয়া।’ তারপরও তাঁকে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়।
এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের আটকেরও চেষ্টা চলছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, রোববার (১০ মে) তুষারকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, ঘটনার পর আহত তুষার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করেছে। চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে পেটানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ওসি বলেন, ‘অভিযোগ যা-ই হোক; কেউ এভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে গাছে বেঁধে পেটাতে পারে না। এটি যেমন অপরাধ, তেমনি ভিডিও করে ছেড়ে দেওয়া আরেকটি অপরাধ। চিকিৎসা শেষ করেই তুষার থানায় এসে অভিযোগ করবেন। এ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’